বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

বর্ষায় প্লাবন, শুষ্ক মৌসুমে চর; পলি, দখল ও নগর বর্জ্যে হারাচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ

সুরমার কান্না শুনছে কি সিলেট?

জনি কান্ত শর্মা

প্রকাশিত: ১৮/০৮/২০২৬ ১২:৪৩:০৬ অপরাহ্ন

সুরমার কান্না শুনছে কি সিলেট?


সিলেট শহরের বুক চিরে বয়ে চলা সুরমা নদী একসময় ছিল এ অঞ্চলের জীবন, জীবিকা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভরসা। নদীপথে চলত নৌযান, পণ্য পরিবহন হতো এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। নদীর সঙ্গে গড়ে উঠেছিল জনপদ, বাজার ও মানুষের জীবনযাত্রা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট, বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠা, তীর দখল এবং নগর বর্জ্য ও পয়োবর্জ্য ফেলার অভিযোগে সুরমা আজ অস্তিত্বের সংকটে। বর্ষায় নদী ফুলে উঠে প্লাবনের ঝুঁকি বাড়ায়, আবার শুষ্ক মৌসুমে অনেক জায়গায় নদী পরিণত হয় সরু জলধারায়। এই দুই বিপরীত চিত্রই এখন সুরমার সবচেয়ে বড় বাস্তবতা—বর্ষায় পানির চাপ, শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতার সংকট।

২৪৯ কিলোমিটারের নদী
সরকারি নদী-তথ্য অনুযায়ী, সুরমা একটি আন্তঃসীমান্ত, অজোয়ারি ও বারোমাসি নদী। ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশের পর জকিগঞ্জ এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি ধারায় বিভক্ত হয়। সুরমা জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ হয়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪৯ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ প্রায় ১১১ মিটার।

সরকারি তথ্যেই সুরমার মৌসুমি বৈপরীত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কম থাকে; কানাইঘাট স্টেশনে মার্চে প্রবাহ প্রায় ২.২৪ ঘনমিটার/সেকেন্ড পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। বিপরীতে জুলাইয়ে একই স্টেশনে প্রবাহ প্রায় ২ হাজার ৮১০ ঘনমিটার/সেকেন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে। অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ অত্যন্ত কমে গেলেও বর্ষায় এর পানি দ্রুত বেড়ে যায়।

২০২৬ সালের বর্ষাতেও সুরমার পানি বৃদ্ধির এই বৈপরীত্য দেখা গেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুন কানাইঘাটে সুরমার পানি এক দিনে ৭৭ সেন্টিমিটার এবং সিলেট পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার বেড়েছিল। ২৩ জুনও কানাইঘাট, সিলেট ও ছাতক পয়েন্টে পানি বৃদ্ধির চিত্র ছিল। যদিও ওই সময় পানি বিপৎসীমার নিচে ছিল, দ্রুত পানি বৃদ্ধির প্রবণতা বর্ষায় সুরমার ওপর বাড়তে থাকা চাপের একটি চিত্র তুলে ধরে।

পলি জমে সংকুচিত হচ্ছে নদীর বুক

সুরমার বর্তমান সংকটের অন্যতম বড় কারণ পলি জমা। দীর্ঘদিনের পলি ও বালু জমে নদীর বিভিন্ন অংশের নাব্যতা কমেছে। ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে সিলেটের সুরমার প্রায় ৩২ কিলোমিটার উৎসাঞ্চলে ৩৫টি চর জেগে ওঠার তথ্য উঠে আসে। একই প্রতিবেদনে সিলেট শহরের কাজীরবাজার থেকে দক্ষিণ সুরমার শ্রীপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে নদীর প্রবাহ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।

২০২২ সালের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, জকিগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে বিপুলসংখ্যক চর জেগে উঠেছে এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর বড় অংশ প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে কোথাও কোথাও নদীর জায়গা শিশুদের খেলার মাঠ কিংবা চাষাবাদের জমিতে পরিণত হওয়ার চিত্রও দেখা গেছে।

নদীর তলদেশে পলি জমে উঁচু হয়ে গেলে বর্ষায় নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা কমে, অন্যদিকে বর্ষায় তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে পানি বাড়লে নদী ও নগরের ওপর চাপ তৈরি হয়।

দখলের ছাপ নদীর তীরে

নদীর সংকট শুধু পলি জমার কারণে নয়; তীর দখলও দীর্ঘদিনের সমস্যা। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যের বরাত দিয়ে ১৭ এপ্রিল ২০২২ সালের দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে সুরমা নদীর সিলেট শহর অংশে ১১১ জন দখলদারকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাদের দখলে নদীর প্রায় ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকার তীর এবং দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনার তথ্য পাওয়া যায়।

পরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও বিভিন্ন স্থানে পুনরায় দখলের অভিযোগ ওঠে। একই প্রতিবেদনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রকৃত দখলদারের সংখ্যা তালিকার চেয়েও বেশি হতে পারে।

নদীর তীর ও আশপাশের জলাধার সংকুচিত হলে শুধু নদীর পরিবেশ নয়, বর্ষায় পানি চলাচল ও নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

নগরের বর্জ্যও পড়ছে নদীতে

সুরমার শহর অংশে দূষণের আরেকটি বড় উৎস নগর বর্জ্য। ২০২২ সালের একটি সরেজমিন প্রতিবেদনে সিলেট শহরের কুশিঘাট থেকে টুকেরবাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাকে সবচেয়ে দূষিত অংশগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বাসাবাড়ি, বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বর্জ্য এবং পয়োবর্জ্য নদীতে পড়ার অভিযোগ উঠে আসে। কালিঘাটের পাইকারি বাজারের পাশে নদীতে পচা সবজি ও অন্যান্য বর্জ্য ভাসতে দেখা যাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে নদীর পানি নিয়ে সব জায়গায় একই ধরনের চিত্র—এমন সিদ্ধান্তও ঠিক হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৩ সালে সুরমার মেন্দিবাগ, কিন ব্রিজ, শাইখঘাট ও ছাতক এলাকার নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের নমুনাগুলোতে পিএইচ ৭.১২ থেকে ৭.৬৯, দ্রবীভূত অক্সিজেন ৭.১৩ থেকে ৮.২৭ মিলিগ্রাম/লিটার এবং বিওডি ২.৩ থেকে ৩.৬ মিলিগ্রাম/লিটার পাওয়া যায়।

অর্থাৎ নদীর পানির মান স্থান ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়; পুরো নদীকে একই মাত্রায় দূষিত বলা তথ্যগতভাবে সঠিক হবে না। অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণায় সিলেট শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নমুনা নিয়ে সুরমার পানিতে মলজাতীয় জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল এবং গবেষণায় ওই পানি পানযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়। তবে গবেষণাটি ২০০৩-০৪ সময়ের নমুনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। তাই এটিকে বর্তমান পানির মানের সরাসরি পরিমাপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; বরং দূষণের দীর্ঘমেয়াদি ইতিহাস বোঝার প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা উচিত।

বর্ষায় নদী ভয় দেখায়, শুষ্ক মৌসুমে হারায় প্রাণ

সুরমার সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা যায় বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে। বর্ষায় উজানের পানি ও বৃষ্টির পানিতে নদীর পানি দ্রুত বাড়ে। ২০২৬ সালের জুনেও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সুরমার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি দ্রুত বেড়েছিল। ২০ জুন কানাইঘাট পয়েন্টে এক দিনে পানির উচ্চতা ৭৭ সেন্টিমিটার এবং সিলেট পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। ২৩ জুন কানাইঘাট ও সিলেট পয়েন্টেও পানি বাড়ার প্রবণতা ছিল।

এই সময়ে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও সুরমার পানি দ্রুত বাড়ার বিষয়টি বর্ষায় নদীটির ওপর তৈরি হওয়া চাপের দিকটি স্পষ্ট করে।

অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে একই নদীর চেহারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি নদী-তথ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলকে সুরমার কম প্রবাহের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হওয়া এবং প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে অনেক অংশে চর জেগে ওঠে। এই বৈপরীত্য শুধু নদীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে না; নগরের জলাবদ্ধতা ও বন্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে সুরমার পলি জমে তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়া, শহরের খাল-নালা দখল ও ভরাট এবং নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটকে সিলেটের জলাবদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের খালগুলো নদীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত না থাকায় এবং সুরমার পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে।

নৌপথের ঐতিহ্য কোথায়?
সুরমা একসময় সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের একটি প্রতিবেদনে সুরমাকে সিলেট অঞ্চলের নৌযোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় নদীর বিভিন্ন অংশে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তলদেশে পলি জমা, চর সৃষ্টি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নৌপথের স্বাভাবিক ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়েছে।

নদী খননের দাবি তাই নতুন নয়। সুরমা খননের জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ ও প্রকল্পের কথা সামনে এসেছে। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নদীর ১৫ কিলোমিটার অংশ সিলেটের কুশিঘাট থেকে বিশ্বনাথের দশগ্রাম পর্যন্ত খননের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে নদীর উজানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অখনন রেখে শুধু সীমিত অংশে খনন করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তখনই বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন ছিল।

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত Is the Surma turning into river of sorrow for Sylhet city? শিরোনামের বিশ্লেষণেও সুরমার পলি জমা, শহরের খাল-নালা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ কিলোমিটার অংশে খননকাজ শুরু হলেও বিচ্ছিন্নভাবে খনন দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই প্রতিবেদনে সুরমা ও শহরের খাল-নালাকে একটি সমন্বিত পানি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

নদীর সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের জীবনও

সুরমার তীরের মানুষের জীবন নদীর ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদী যখন নাব্য ছিল, তখন নৌকা ছিল যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সহজ মাধ্যম। নদীর তীরবর্তী বাজারগুলোও নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যের সুবিধা পেয়েছে।

এখন নদীর তলদেশে চর জেগে ওঠা, নাব্যতা কমে যাওয়া এবং তীরের পরিবর্তিত ব্যবহার মানুষের সেই পুরোনো জীবনযাত্রাকে বদলে দিয়েছে। কোথাও নৌযান চলাচল কমেছে, কোথাও নদীর তীরের মানুষকে বর্ষার ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীর জায়গায় জেগে ওঠা চরে চাষাবাদও হচ্ছে।

অর্থাৎ সুরমার সংকট কেবল একটি নদীর সংকট নয়; এটি নদীভিত্তিক একটি জনপদের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পরিবেশের সংকট।

সমাধান কি শুধু খনন?

সুরমাকে বাঁচাতে শুধু ড্রেজার নামালেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ নদীর সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পলি, উজানের প্রবাহ, দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নালার সংযোগ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ।

২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও সুরমার খননের পাশাপাশি শহরের খাল-নালা পুনরুদ্ধার, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনা এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীদের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে নদীর উৎস থেকে নিম্নপ্রবাহ পর্যন্ত সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদীর তীর দখলমুক্ত করা, বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করা, শহরের খাল-নালার সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক সংযোগ ফিরিয়ে আনা এবং বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে খনন করা জরুরি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের মধ্যেও নৌপথের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে খনন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে।

শেষ কথা

সুরমা শুধু একটি নদীর নাম নয়; এটি সিলেটের ইতিহাসের অংশ। এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে জনপদ, বাজার ও মানুষের জীবনের অসংখ্য গল্প। আজ নদীটি একদিকে পলি ও দখলের চাপে সংকুচিত, অন্যদিকে বর্ষায় অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। কোথাও নদীর বুকে চর, কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, আবার কোথাও বর্ষার পানিতে তীব্র স্রোত। এই দুই বিপরীত চিত্রই সুরমার বর্তমান বাস্তবতা—বর্ষায় পানির চাপ, শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতার সংকট।

সুরমাকে বাঁচানোর অর্থ শুধু একটি নদীকে রক্ষা করা নয়; সিলেটের নগরজীবন, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ এবং নদীঘেঁষা মানুষের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।

প্রশ্ন এখন একটাই সুরমাকে আমরা শুধু বর্ষার বন্যার সময় মনে রাখব, নাকি সারা বছর একটি জীবন্ত নদী হিসেবে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেব? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সুরমার দিকে এখনই তাকানো জরুরি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর