নীতিগত জটিলতায় সিলেটে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, বিপাকে সাধারণ মানুষ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ PM

নীতিগত জটিলতায় সিলেটে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, বিপাকে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭/০৪/২০২৬ ১১:০৬:৩৯ AM

নীতিগত জটিলতায় সিলেটে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, বিপাকে সাধারণ মানুষ


সিলেটে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুর্বল নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সারাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে যখন পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তখনও সিলেটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে গত দুই-তিন দিন ধরে সিলেটের বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থার জন্য ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর সাম্প্রতিক নীতিকে দায়ী করছেন।

সিলেট বিভাগ পেট্রল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদদান জানান, সম্প্রতি বিপিসি একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, পাম্পগুলো তাদের নিয়মিত উত্তোলনের দ্বিগুণের বেশি জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে না। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক পাম্প মালিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল উত্তোলন করছেন না, যার কারণে পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “ডিপোতে তেল থাকা সত্ত্বেও আমরা গ্রাহকদের দিতে পারছি না—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? নীতিগত সমস্যার কারণেই এই সংকট তৈরি হচ্ছে।”

এদিকে, সংগঠনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সরকারি তিনটি ডিপোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৭০টি এবং মহানগরীতে ৪৫টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৮ লাখ লিটারই ডিজেল। বাকি আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল ও অকটেন।

তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ডিপোগুলোতে তেলের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু সরকারের রেশনিং পদ্ধতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং এটি প্রায় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। অন্যদিকে, সিলেটের গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ব্যারেল অকটেন, সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন এবং কিছু পরিমাণ ডিজেল উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল ও অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিলে সিলেটে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট থাকবে না। একই মত দিয়েছেন ডিপোর কর্মকর্তারাও। যমুনা অয়েল লিমিটেডের সেলস অফিসার বেনজির আহমদ বলেন, “ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল থাকলেও সরকার নির্ধারিত রেশনিংয়ের বাইরে সরবরাহ করার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।”

এ অবস্থায় দ্রুত নীতিগত সমাধান না হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর