চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। সবুজ টিলাজুড়ে এখন চায়ের স্নিগ্ধতা। এরসঙ্গে ভেসে আসছে আনারসের মিষ্টি ঘ্রাণ। উঁচু টিলায় গাঢ় সবুজ কাঁটাযুক্ত পাতার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে শত শত আনারস। অনুকূল আবহাওয়া আর চাষিদের পরিশ্রমে এখন কোথাও কাঁচা-সবুজ, কোথাও সোনালি রঙে পেকে উঠেছে আনারস।
মৌলভীবাজার কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, বড়লেখার পাহাড়ি টিলায় ১ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এমডি, হানিকুইন, জায়েন্ট কিউ জাতের ২২ হাজার ৭৭৪ মেট্টিক টন ফলন হয়েছে। টাকার অংকে যা ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ২০ টাকার আনারস এই জেলায় উৎপাদন হয়েছে।
হানিকুইন জাতের আনারসের উৎপাদন বেশি এবং এর চাহিদাও ব্যাপক। এবার আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার আনারস নষ্ট হয়। এর সঙ্গে বাড়তি খরচ, কীটনাশকের উচ্চমূল্য, বাজার সিন্ডিকেটে চাষির লাভ তেমন থাকে না।
সরেজমিন কথা হলে শ্রীমঙ্গলের আনারস বাগান মালিক লেবু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজার ভালো। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বেশি আনারস উৎপাদন হলে অনেক সময় দাম পড়ে যায়, তখন আমরা লোকসানে পড়ে যাই।
এ সময় কথা হয় আনারস বাগান শ্রমিক সুহেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, একসঙ্গে আনারস পেকে যাওয়ায় আমরা বেকায়দায় পড়ে যাই। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে মালিক আর ব্যবসায়ী দুই পক্ষই লাভবান হতো।
শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী নির্মল আদিত্য বলেন, প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের আড়তে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার আনারস কেনাবেচা হয়। মৌলভীবাজারে আনারসের উৎপাদন প্রতি বছর বাড়ছে। অনেক দিন থেকে তারা এখানে হিমাগার স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, চায়ের জনপদে নতুন সম্ভাবনার নাম আনারস। পাহাড়ে জন্ম নেওয়া সোনালি এই ফল, শুধু কৃষকের স্বপ্নই নয় হতে পারে মৌলভীবাজারের অর্থনীতির আরেক শক্তি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








