ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতারণা মামলায় প্রবাসী নারী গ্রেফতার
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ PM

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতারণা মামলায় প্রবাসী নারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২/০৭/২০২৬ ০৩:২৪:৩১ PM

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতারণা মামলায় প্রবাসী নারী গ্রেফতার

ছবি : মো. সোহেল মিয়া


সিলেটে প্রতারণা মামলায় বিমানবন্দর থেকে মাকসুদা চৌধুরী (৫৬) নামে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মাকসুদা চৌধুরী (৫৬) মৌলভীবাজার জেলার সদর থানার রাউটগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী (পাসপোর্ট নং-GBR 157887306)।

রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG201 ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান মাকসুদা চৌধুরী। বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

তিনি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রতারণা ও হুমকির প্রদানে জিআর মামলার এজাহারনামীয় আসামি। মামলা নং- ০৩/৩৩৮) তারিখ ০১/০৭/২৬।

আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিদেশ গমন সাময়িকভাবে স্থগিত করে তাকে অফলোড করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো.মনজুরুল আলম।

তিনি বলেন, প্রতারণা মামলায় ওই নারীকে গ্রেফতার  দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাকসুদা চৌধুরী (৫৬) বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করেন এয়ারপোর্ট থানার ধোপাগুল এলাকার শুকুর মিয়া। 

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আম্বরখানা এলাকার এসএ খতিয়ান নং-৫৭ এবং এসএ দাগ নং-৫৭৫ এর অন্তর্ভুক্ত ১ একর ১৮ শতক ভূমির মালিক ছিলেন আব্দুল মান্নান খান। তার কাছ থেকে মাকসুদা চৌধুরীর স্বামী শাহ মো.ছালেক হোসেন ৩৫ শতক ভূমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে বিএস খতিয়ান ও নামজারি সূত্রে এবং হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে মাকসুদা চৌধুরী ওই ভূমির মালিকানা লাভ করেন।

পরবর্তীতে মাকসুদা চৌধুরী ওই ভূমি বিক্রি করার ঘোষণা দিলে, বাদী মো. শুকুর মিয়ার মেয়ে জামাতা প্রবাসী ফুজাইল আহমদ জমিটি ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে জমির মোট মূল্য ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সাব্যস্ত করা হয়। জমির মালিকানার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সঠিক পাওয়ায় ফুজাইল আহমদ জমিটি রেজিস্ট্রি করার জন্য সম্মত হন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় মাকসুদা চৌধুরীর নির্দেশনায় গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ব্যাংক চলাকালীন সময়ে দরগাহ গেইটস্থ ‘ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড’ শাখায় টাকা লেনদেনের সিদ্ধান্ত হয়। ফুজাইল আহমদের ব্যাংক এশিয়ার হিসাব থেকে মাকসুদা চৌধুরীর প্রাইম ব্যাংক পিএলসি (আম্বরখানা শাখা) অ্যাকাউন্টে আরটিজিএস-এর মাধ্যমে ১কোটি ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। বাকি ৮ লক্ষ টাকা একটি ব্যাংক চেকের (নং-এসবি/এফ-৯৩৯৯৫০৮) মাধ্যমে মাকসুদা চৌধুরীকে প্রদান করা হয়, যা তিনি নগদ উত্তোলন করেন।

টাকা বুঝে পাওয়ার পর জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য সরকারি ফি জমাসহ সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার মুহূর্তে মাকসুদা চৌধুরীর ননদ ও শাশুড়ির পক্ষের লোকজন এসে জমি বিক্রিতে আপত্তি জানায়। এই অজুহাতে মাকসুদা চৌধুরী সেদিন দলিল সম্পাদন না করে চলে যান। পরবর্তীতে বাদী এবং তার প্রবাসী জামাতা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলে মাকসুদা চৌধুরী জমি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা গ্রহণের বিষয়টিও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এমনকি তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর