ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়: এআই দিয়ে ফাঁসানোর দাবি ইউপি চেয়ারম্যানে
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ PM

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়: এআই দিয়ে ফাঁসানোর দাবি ইউপি চেয়ারম্যানে

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/০৭/২০২৬ ০৩:১৩:১০ PM

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়: এআই দিয়ে ফাঁসানোর দাবি ইউপি চেয়ারম্যানে


জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে মাদক সেবন করতে দেখা যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অনেকেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সারিঘাটের ডুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলামের নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনার পর গত বুধবার রাত ১০টার দিকে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি,দলীয় নেতা-কর্মী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে বিষটি নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী।

ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন,ভাইরাল ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।তার অভিযোগ,একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সম্মান এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি প্রচার করেছে।

চেয়ারম্যান বলেন,আমি কোনো ধরনের মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমি আইনি সহযোগীতা চাইবো।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন,চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে সামাজিক,রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল সর্বোচ্চ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে বলে আমার ধারণা।এখন পর্যন্ত ভিডিওটির সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমেদ বলেন,দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ইন্তাজ আলীর সঙ্গে বড় ভাইয়ের মতো চলাফেরা করেছেন। তার জানামতে, চেয়ারম্যানকে কখনো মাদক সেবন করতে দেখেননি। তিনি দাবি করেন,একটি সালিশকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসাবশত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বাধীন সংস্থা ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে,ভিডিওটি প্রচারকারী হিসেবে আলোচিত ফয়জুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে ভিডিওটির সত্যতার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ভিডিও টির ব্যাপারে উপজেলা জুড়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনাসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর