চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ, নগরীতে তীব্র পানি সংকট
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ PM

চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ, নগরীতে তীব্র পানি সংকট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/০৭/২০২৬ ০৯:৩৭:৫৮ AM

চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ, নগরীতে তীব্র পানি সংকট


নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট চরম আকার ধারণ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দাবদাহ থাকায় নগরে একদিকে বাড়ছে পানির চাহিদা অপরদিকে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত পাম্প চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে চাহিদার অনেক পানি সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে সিসিক। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

গ্রাহকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে নগরীর সুবিদবাজার, বড়বাজার, পাঠানটুলা, খাসদবির, উপশহর, সোনারপাড়া, লামাপাড়া, শিবগঞ্জ, জেলরোড, বারুতখান, ভাতালিয়াসহ বেশকিছু এলাকায় পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর ৪২টি ওয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে ২৭টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এসব ওয়ার্ডে দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও সিটি কর্পোরেশন থেকে সাড়ে ৩ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ অর্ধেকের কমে নেমে এসেছে। ফলে সীমাহিন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক।

জানা গেছে, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন পানির চাহিদা ১৩ কোটি লিটার। কিন্তু ৪ বছরেও বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে পানির লাইন চালু করা হয়নি। ফলে নগরীর অধিকাংশ মানুষ সিসিকের পানি সেবা থেকে বঞ্চিত। ব্যক্তিগত ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানির চাহিদা পূরণ করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দার এই নগরে ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২৫, ২৬ ও ২৭নং ওয়ার্ডের কিছু অংশে পানির সংযোগ লাইন স্থাপন করা হলেও পানি স্বল্পতার কারণে এসব ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ২৪টি ওয়ার্ডে বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য পানির চাহিদা প্রতিদিন ৬ কোটি লিটার। তবে এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে সাড়ে ৩ কোটি লিটার।

অন্যদিকে ২০২১ সালে নতুনভাবে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ড ও পুরোনো ৩টি ওয়ার্ডে (২৫, ২৬ ও ২৭ নং) দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে ৭ কোটি লিটার। তবে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এখনো পানির সংযোগব্যবস্থাই চালু হয়নি। পুরোনো ওয়ার্ডগুলোতে বর্তমানের পানির গ্রাহক আছেন ২০ হাজার ৫৪ জন। তবে নগরের সচেতন বাসিন্দাদের দাবি, সিটি করপোরেশনের হিসাবের চেয়েও পানির চাহিদা বাস্তবে আরও অনেক বেশি।

সিসিকের পানি সরবরাহ শাখা সূত্র জানা গেছে, বর্তমানে কুশিঘাট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ৪৫টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ৮ হাজার ২৫২টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পানি উত্তোলন করছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে পানি উত্তোলনের নলকূপের সঠিক সংখ্যা সিসিকের পানির চাহিদার তথ্যে এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে কী পরিমাণ পানি উত্তোলন হচ্ছে, এই তথ্যও করপোরেশনে সংরক্ষিত নেই। ফলে নগরীতে পানির চাহিদার সঠিক তথ্য আজও অজানা রয়ে গেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার পানির গ্রাহকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গেল সপ্তাহে বৃষ্টির মধ্যেও গরম অনুভুত হচ্ছে বেশী। আর গরম একটু বেশি পড়লেই লোডশেডিং বেশি হয়। এতে পানির সংকট বেড়ে যায়। এসময় সিটি করপোরেশন চাহিদামতো পানি সরবরাহ করতে পারে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চলতি মৌসুমে যথাসময়ে সিটি কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করতে পারছে না। গত কয়েক বছর থেকে দুইবারের পরিবর্তে সিসিক থেকে একবার করে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এরপরও সিসিক সঠিক সময়ে পানি দিতে পারছে না। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক।

নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের সোনারপাড়ার বাসিন্দা আলম মিয়া জানান, গত ২ দিন থেকে এক ফোটাও সাপ্লাই পানি পাইনি। নির্দিষ্ট টাইমে পানি আসার কথা থাকলেও আসেনা। সিসিকের পানি শাখার লাইনম্যানকে ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেনা। রিসিভ করলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে পরবর্তীতে পানি দেয়া হবে জানালেও গত ২ দিন কোন পানি সরবরাহ করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সোনারপাড়া এলাকা সফরে আসলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পানি সংকট সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন। এলাকাবাসী এখন সেই আশায় আছেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, নগরে এখন সেই অর্থে পানির সংকট নেই। সিটি করপোরেশন তো সরবরাহ করছেই, অনেকে করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে নলকূপ স্থাপন করেও পানি উত্তোলন করছে। কয়েকদিন থেকে ঘন ঘন লোডশেডিং কারণে কিছু এলাকায় মোটর চালানো সম্ভব না হওয়ায় সময়মতো পানি সরবরাহ করা যাচ্ছেনা। আবার কিছু এলাকায় লোড বল্টেজের কারণে পাম্পে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে আমাদের পানি শাখার কর্মকর্তাগণ সারাদিনই এসব নিয়ে কাজ করছেন। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। লোডশেডিং কমে গেলে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও আশ^স্ত করেন তিনি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর