এক বছর পর ছাতকের কংক্রিট স্লিপার প্লান্টে আবার উৎপাদন
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ PM

এক বছর পর ছাতকের কংক্রিট স্লিপার প্লান্টে আবার উৎপাদন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৬ ০১:১৮:৩৫ PM

এক বছর পর ছাতকের কংক্রিট স্লিপার প্লান্টে আবার উৎপাদন


এক বছর বন্ধ থাকার পর আবার সচল হয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতকে বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। গত রোববার থেকে কারখানাটিতে পুরোদমে স্লিপার উৎপাদন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর উৎপাদন ফিরলেও প্লান্টটি চালু রাখতে এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামালের সংকট ও জনবল ঘাটতিসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

উৎপাদন শুরুর পর গত রোববার প্লান্ট এলাকা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন এবং রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাতকের এই প্লান্টটি দীর্ঘদিন ধরেই যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামালের তীব্র সংকট ও জনবল ঘাটতিতে ভুগছিল। এসব কারণে অতীতেও একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় পুরো প্লান্ট পানিতে তলিয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি মেরামত এবং ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতেই সময় লেগেছে। ফলে প্লান্ট পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়। গত বছরও কয়েক দফায় উৎপাদন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামালের সংকটে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে দৈনিক ২৬৪টি কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্লান্টটি। কাঠের স্লিপারের তুলনায় কংক্রিট স্লিপারের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় রেললাইনকে মজবুত, টেকসই ও নিরাপদ রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই প্লান্টে উৎপাদিত স্লিপার মূলত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠার পর ২০০০ সাল পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চললেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে উৎপাদন বন্ধ ও চালুর মধ্য দিয়ে চলেছে কারখানাটি। ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালেও প্লান্টটি বন্ধ ও পুনরায় সচল হওয়ার ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মাধ্যমে প্লান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন করে চালুর পর আগামী এক বছরে প্রতি সপ্তাহে ৬ দিন ২৪০টি করে মোট ২৫ হাজার কংক্রিট স্লিপার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে পঞ্চগড়, বাংলাবান্ধা ও জামালপুরে বেসরকারি খাতে কয়েকটি স্লিপার প্লান্ট গড়ে উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসব কারখানা থেকেও স্লিপার সংগ্রহ করছে। ছাতকের সরকারি প্লান্ট থাকার পরও বাইরে থেকে স্লিপার সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, বন্যার পানিতে প্লান্টটি তলিয়ে যাওয়ায় মেশিনারিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। যন্ত্রাংশ মেরামত ও পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লেগেছে। এখন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবও প্লান্ট পুনরায় চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শেষ করে প্লান্টটি পুনরায় চালু করেছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে স্লিপার উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এক বছর পর ছাতকের কংক্রিট স্লিপার প্লান্টে আবার উৎপাদন

সিলেটজুড়ে


মহানগর