জগন্নাথপুরে প্রবাসীকে উত্তরাধিকার সনদ না দেওয়ার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৭ PM

জগন্নাথপুরে প্রবাসীকে উত্তরাধিকার সনদ না দেওয়ার অভিযোগ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৬ ০৯:৫২:১৯ AM

জগন্নাথপুরে প্রবাসীকে উত্তরাধিকার সনদ না দেওয়ার অভিযোগ


যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও দেশের একটি প্রশাসনিক সনদের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের এক প্রবাসী নাগরিককে। উত্তরাধিকার সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেও প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সনদ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ লিপু মিয়া (৫১)। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।

লিপু মিয়া উপজেলার সৈয়দপুর হাড়িকোনা গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রতিনিধি পাঠানোর পরও ৭ নম্বর সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়া বিভিন্ন অজুহাতে সনদ দিতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লিপু মিয়া ও তাঁর পাঁচ ভাই এবং ছয় বোন দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের বাবা শফিক মিয়া ২০০০ সালে মারা যান। এরপর ভাই-বোনদের নামে উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ সনদের প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রবাসে অবস্থান করায় সনদ সংগ্রহের জন্য লিপু মিয়া তাঁর চাচাতো ভাই রেজুওয়ান কোরেশীকে প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদে পাঠান। রেজুওয়ান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু সনদ না দিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে ঘোরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্য থেকে মোহাম্মদ লিপু মিয়া বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকলেও দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে ওয়ারিশান সনদ নেওয়ার জন্য প্রতিনিধির মাধ্যমে ইউপিতে যোগাযোগ করা হলে প্যানেল চেয়ারম্যান অন্যায়ভাবে টালবাহানা শুরু করেন। বাধ্য হয়ে আমি সুবিচারের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি।’

লিপু মিয়ার প্রতিনিধি ও চাচাতো ভাই রেজুওয়ান কোরেশী বলেন, ‘আমি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়ার কাছে একাধিকবার গিয়েছি। তিনি সঠিক কোনো কারণ না দেখিয়ে দিনের পর দিন আমাকে ঘোরাচ্ছেন এবং সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে টালবাহানা করছেন। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া আমরা এই সনদ পাচ্ছি না।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়া। তাঁর দাবি, সনদ দিতে কোনো ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ওয়ারিশান সনদ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। প্রবাসী পরিবারের ওয়ারিশদের সংখ্যা, পরিচয় ও কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার পরই সনদ ইস্যু করতে হয়। যাচাই প্রক্রিয়া চলায় কিছুটা সময় লাগছে। নিয়ম অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে সনদ দিয়ে দেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, প্রবাসী লিপু মিয়ার একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অনর্থক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্রুত সনদপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর