দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চুক্তির মূল কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর বিস্তারিত শর্ত খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই সমঝোতার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচল আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চুক্তির খবর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী সংস্থা এবং বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও নৌযান চলাচলে এখনো বড় ধরনের কোনো আকস্মিক বৃদ্ধি দেখা যায়নি। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
এদিকে শান্তি চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সমঝোতা বিশ্ব অর্থনীতিকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তেহরানও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে সামগ্রিক শান্তি উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ইসরাইল ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বজায় রাখবে। ফলে নতুন এই সমঝোতা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তি শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকে। বিবিসি
আজকের সিলেট/এপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








