গঠনমূলকভাবে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ PM

গঠনমূলকভাবে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/০৬/২০২৬ ১০:০৯:০৫ AM

গঠনমূলকভাবে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির কারণে সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডে গঠনমূলক পরিবেশে শেষ হয়েছে।মধ্যস্থতাকারীদের দাবি, দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা চলতি সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, দেশটির তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে এবং বিদেশে জব্দ থাকা কিছু সম্পদও মুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (হাই-লেভেল কমিটি) গঠনে সম্মত হয়েছে। এই কমিটি আলোচনার রাজনৈতিক তদারকি করবে। এর অধীনে পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পৃথক কর্মদল কাজ করবে।

মধ্যস্থতাকারীরা আরও জানিয়েছে, আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে, যা দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এক ইরানি সূত্র জানায়, ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বোমা হামলা চালানোর এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিলে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি চুক্তি না করে, তাহলে আমরা টোল আদায় করব। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ট্রাম্পের ওই মন্তব্য সম্প্রচারের পর তেহরান প্রথমে আলোচনা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।

ট্রাম্প অতীতেও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে টোল আরোপের কথা বলেছিলেন। যদিও তিনি বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে কখনোই এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেওয়া হবে না। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’থাকবে। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে যায়।

তবে আলোচনার পর কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা (লাইন অব কমিউনিকেশন) চালু করতে সম্মত হয়েছে। এর লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা।

এদিকে আলোচনার ওপর এখনও ছায়া ফেলছে লেবাননে চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি নবায়ন হলেও সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবানন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় পরিচালিত এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হবে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, এই উদ্যোগের কার্যকারিতাই হবে বর্তমান সমঝোতার প্রথম বাস্তব পরীক্ষা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর