মায়ামির উত্তপ্ত আবহে রাত পোহালেই মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা স্কটল্যান্ড। সবকিছু ঠিক থাকলে লম্বা সময় পর এই ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরতে পারেন নেইমার।
মায়ামি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায়।
স্কটল্যান্ডের জন্য এটি হতে পারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ। জয় বা ড্র পেলেই তারা শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে। হারলেও সম্ভাবনা থাকবে অনেক যদি-কিন্তুর উপর।
ব্রাজিলও গ্রুপে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও হাইতির বিপক্ষে বড় জয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছে সেলেসাওরা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির আশা, স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়েই তার দলও প্রত্যাশিত রূপে আবির্ভুত হবে।
আনচেলত্তি একাদশে পরিবর্তন আনতে পারেন, তরুণ এন্ড্রিককে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভিনিসিউস জুনিয়র দলের প্রধান ভরসা, নেইমারের অনুপস্থিতিতে তার ওপরই দায়িত্ব বেশি। তবে এই ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন নেইমার। তেমন আভাসই মিলেছে।
গত সপ্তাহে নেইমার পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন। গত সোমবার প্রথমবার দলের সঙ্গে ট্যাকটিক্যাল সেশন করেছেন, যা দেখে সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি বলেছেন, ‘ওকে দেখলেই বোঝা যায়, কতটা ক্ষুধার্ত।’ এ ক্ষুধা শুধু মাঠে নামার নয়, আরও একবার নিজেকে প্রমাণ করার। প্রশ্ন এখন একটাই—তিনি খেলবেন কি না?
আনচেলত্তির কথায় স্পষ্ট, শারীরিকভাবে পুরো ম্যাচ খেলার অবস্থায় আছেন নেইমার, ‘সে ৯০ মিনিটও খেলতে পারে। ভালো অবস্থায় আছে, খুব কঠোর পরিশ্রম করেছে। অনুশীলনও ভালো হয়েছে। তাকে নিয়ে আমি খুবই খুশি।’
ইতালিয়ান কোচ যোগ করেন, ‘নেইমার প্রস্তুত। সে এই সপ্তাহে ভালো অনুশীলন করেছে, ম্যাচের জন্যও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা সবাই খুব খুশি। তার গুণগত মান দলকে অনেক কিছু দিতে পারে।’
হয়তো বেঞ্চে শুরু করবেন নেইমার। নামতে পারেন শেষ আধা ঘণ্টায়। তার উপস্থিতি, এমনকি সম্ভাবনাটুকুও যে ম্যাচের আবহ বদলে দেয়।
অন্যদিকে জন ম্যাকগিনের গোল স্কটল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বকাপ জয় এনে দিয়েছে। কোচ স্টিভ ক্লার্কের দল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, সমর্থকরা বলছেন তারা “ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে।” তবে তাদের রক্ষণভাগে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক উইং প্লে বড় হুমকি হতে পারে।
ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ডকে সমর্থন দিতে হাজার হাজার স্কটিশ সমর্থক মায়ামিতে জড়ো হয়েছেন। দেশে বড় বড় ভেন্যুতে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানো হবে, পাব ও ক্লাবগুলো রাতভর খোলা থাকবে। স্কটিশ বিয়ার ও পাব অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, গ্রুপ ম্যাচগুলো অতিরিক্ত ৭ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করতে পারে।
স্কটল্যান্ড জয় বা ড্র করলে ইতিহাস গড়বে। ব্রাজিল জিতলে জমে উঠবে গ্রুপের শীর্ষে থাকার লড়াই। হারের ক্ষেত্রে স্কটল্যান্ডকে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যে ম্যাচে একই সময়ে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও হাইতি।
আজকের সিলেট/এপি
ক্রীড়া ডেস্ক 








