দিরাইয়ে ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল সংকট, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতিসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত এই হাসপাতালে নতুন কোন পদ সৃষ্টি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ৮১টি শূন্য পদ নিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালে মোট ১৭৪টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৯৩ জন। ফলে হাসপাতালে এসে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে হাসপাতালের উদ্বোধন করেন।
হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তখন ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় কিন্তু শয্যা ও ভবন বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নেই কোনো নিরাপত্তাকর্মী। এ কারণে রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনাসহ হাসপাতালের ভিতরে কুকুর, বিড়াল, ও ছাগল ডুকে পড়ে প্রায়ই।
অপরদিকে, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে এক্সরে মেশিন। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার কারণে নিয়মিত চালু হয়না জেনারেটর। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডের ভেতরে ছারপোকা, মশা ও মাছির অবাধ বিচরণ, বেডের চাদর ও বালিশ নোংরা এবং বাথরুমের তীব্র দুর্গন্ধে রোগীরা আরও অসুস্থ বোধ করেন।
এসময় স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা মুবাশ্বির, জিতু মিয়াসহ অনেকেই দৈনিক সিলেটের ডাকের এ প্রতিবেদককে জানান, রোগীদের সাথে হাসপাতালে কর্মরত নার্স, আয়া বা অন্য কর্মচারীরা খিটখিটে মেজাজ এবং অপেশাদার আচরণ দেখান। হাসাপাতালে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করানোর জন্য পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোগীদের বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে রোগীদের রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করাতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এদিকে, অনুমোদিত পদের বিপরীতে অনেক পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা কাজ ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মচারীর অভাবে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার তালুকদার বলেন, জনবল ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, 'ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তাররা ওভার ডিউটি করেও স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাসপাতালে তিন ভাগের এক ভাগও জনবল নেই। বিষয়গুলো আমরা উপর মহলে জানিয়েছি।'
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








