খামেনির শোকযাত্রায় জনসমুদ্র
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ PM

খামেনির শোকযাত্রায় জনসমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/০৭/২০২৬ ০৮:৪৬:৫৯ AM

খামেনির শোকযাত্রায় জনসমুদ্র


তেহরানের রাস্তায় চলছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের শোকযাত্রা। এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের সময় নিজেদের সরকারের অটুট থাকার প্রশংসা করে খামেনি হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শোকাহত ইরানিরা। ইরানি কর্তৃপক্ষও ন্যায়বিচারের লড়াই ছেড়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে দুইদিন ধরে খামেনির লাশ রাখা হয়েছিল।

সোমবার সকালে সেখান থেকে তার লাশ রাজধানীর রাস্তায় ১২ ঘণ্টার এক দীর্ঘ যাত্রায় বের করা হয়। এসময় লাখো শোকাতুর মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরান শাসন করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে এক বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে সমবেত হওয়া শোকাহত মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে দেন। এছাড়া অন্যদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি দেখা গেছে। সেগুলোতে লেখা ছিল, ‘রক্তের বদলা নেওয়া হবে।’

রোববার হাজার হাজার মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ভিড় করেছিলেন। খামেনির পাশাপাশি তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনিও ওই হামলায় নিহত হন, যাদের লাশও সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে।

খামেনির দাফন সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইরানের কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ শোকানুষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের টিকে থাকার সক্ষমতা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইরানের গর্বিত ও অজেয় জাতি যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।’

সোমবারের এই শোকযাত্রার পর মঙ্গলবার ধর্মীয় শহর কোমে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে খামেনির নিজ শহরে তাকে দাফন করার মধ্য দিয়ে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

রোববার খামেনির তিন ছেলে জনসমক্ষে শোকানুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে খামেনির মৃত্যুর পরপরই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি মানুষের নজর কেড়েছে। তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাবাকে হত্যা করা ওই বিমান হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন, তবে তার আঘাত কতটা গুরুতর তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ যদিও একটি ঐক্যবদ্ধ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তবুও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পূর্বসূরিদের কাউকেই অনুষ্ঠানগুলোতে এখনো দেখা যায়নি, যাদের সঙ্গে খামেনির সম্পর্ক বেশ শীতল ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কারণে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই সতর্ক করেছে, তারা সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। খামেনির সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ শোকানুষ্ঠানে ‘প্রতিশোধ’ একটি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি ন্যায়বিচারের লড়াই কখনো ছেড়ে না দেওয়ার শপথ নিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভির তথ্যমতে, আমির হাতামি বলেছেন, ‘যারা এই অপরাধ করেছে তাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, ইরানের জাতি ও আমরা কেউই ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি থেকে কখনো সরে আসব না।’

রোববার শেষ বিদায়ের প্রার্থনায় ৩৮ বছর বয়সী মিরেমাদি নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, ‘খামেনির হত্যাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

খামেনি দীর্ঘসময় ধরে পশ্চিমের বিরুদ্ধে সংঘাতের পথ অনুসরণ করেছিলেন। তেহরান বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরাও খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর