একসময় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ছিল ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক মর্যাদা ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। একজন প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা।
কিন্তু ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন চালুর পর সেই বাস্তবতা বদলে যায়। নৌকা, ধানের শীষ, লাঙলসহ বিভিন্ন প্রতীককে কেন্দ্র করে স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির প্রভাববলয়ে চলে আসে। এর সঙ্গে বাড়তে থাকে দলীয় বিভাজন, সহিংসতা, মামলা-মোকদ্দমা, মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সামাজিক সংঘাত। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার হারানো ভারসাম্য কিছুটা হলেও ফিরে আসতে পারে। তবে তাদের সতর্ক বার্তা— শুধু প্রতীক বাদ দিলেই হবে না; প্রয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত ভোটের পরিবেশ।
দলীয় প্রতীকের শুরু, বিতর্কেরও শুরু
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৬ সালের ২২ মার্চ প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী, সংঘর্ষ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্কের অবনতি দেখা দেয়।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের একটি বড় অংশ জনগণের চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। স্থানীয় সমস্যার পরিবর্তে জাতীয় রাজনৈতিক অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে থাকে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ক কমিটির সদস্য ড. আব্দুল আলীম বাংলানিউজকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু দলীয় প্রতীক থাকলেই নয়, প্রতীক না থাকলেও সৃষ্টি হতে পারে।
তার ভাষ্য, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সময় একই দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থিত একাধিক প্রার্থী থাকায় অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সহিংসতা বেড়েছিল। ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চালুর পরও সহিংসতা কমেনি; বরং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, নির্দলীয় নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক দলগুলো যদি অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়, তাহলে একই ধরনের সমস্যা আবারও দেখা দিতে পারে। তাই আইন অনুযায়ী যেহেতু নির্বাচন নির্দলীয়, সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোরও কোনো প্রার্থীকে প্রকাশ্যে বা পরোক্ষভাবে সমর্থন দেওয়া উচিত নয়।
ড. আলীমের মতে, বর্তমান আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকায় দলগুলো সমর্থন দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই আইন সংশোধন অথবা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কোনো রাজনৈতিক দল দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন বা মনোনয়ন দিতে পারবে না। তাহলেই প্রতীকবিহীন নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে এবং দলীয় প্রভাব ও সহিংসতা কমানো সহজ হবে।
কী কী সমস্যা তৈরি হয়েছিল?
দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন চালুর পর সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগগুলো সামনে আসে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— মনোনয়ন বাণিজ্য, বিদ্রোহী প্রার্থীকে কেন্দ্র করে সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানি, ভোটারদের রাজনৈতিক বিভাজন, নির্বাচন-পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বিরোধ, উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনে দলীয় পক্ষপাত এবং চেয়ারম্যানদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হওয়া। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বেশি সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঐতিহ্য ভেঙে গিয়েছিল
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চালুর মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে দলীয় নেতারা মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ায় সংঘর্ষও চরম আকার ধারণ করেছিল।
তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় তুলনামূলকভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য যেমন কমবে, তেমনি সংঘাতও কমে আসবে।
এই অধ্যাপক আরও বলেন, দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ায় গ্রামীণ সমাজে বিভাজন কমে সামাজিক সম্প্রীতি ও নিরপেক্ষতা ফিরতে পারে। তবে কালো টাকা, পেশিশক্তি, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক পক্ষপাত দূর না হলে শুধু প্রতীক বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই এবারের ইউপি নির্বাচন তৃণমূলের গণতন্ত্র ও স্থানীয় নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
স্থানীয় সরকারে কী প্রভাব পড়েছিল?
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটার সচেতনতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ থাকায় এবারই সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, এমন আশা করা কঠিন।
তবে তিনি মনে করেন, দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্বাচন হলে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং ভোটারদের সামনে বিকল্পও বৃদ্ধি পাবে। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, নির্বাচন যেন কালো টাকা, পেশিশক্তি ও অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে এবং সব মতের মানুষ নির্ভয়ে ভোটে অংশ নিতে পারেন।
তার মতে, বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম স্থগিতের আওতায় থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্যও স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করবে। ফলে নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চেয়ারম্যানদের প্রত্যাশা
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সুলতাননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. পয়গাম আলী বাংলানিউজকে বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, এটি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে হওয়াই উচিত, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন চালুর ফলে নানা ধরনের বিভাজন ও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছিল। সেই ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সরকার যে প্রতীকবিহীন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এতে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রতিযোগিতা আরও সুষ্ঠু হবে এবং অতীতের অনেক অভিযোগের পুনরাবৃত্তি কমবে।
পয়গাম আলী বলেন, আগের দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে অনেক সময় একটি দল থেকে একজন বা দুজন প্রার্থী থাকতেন। এবার প্রতীক না থাকায় চার-পাঁচজন, এমনকি আট-দশজন প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, যা প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণ বাড়াবে।
তিনি জানান, তাদের দল থেকেও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থীকে সমর্থনের চেষ্টা করার অলিখিত নির্দেশনা রয়েছে। তবে কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, বিগত সরকারের দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল একরোখা সিদ্ধান্ত। এতে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কার্যত দলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। দলীয় পরিচয়ের কারণে তারা সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে পারতেন না।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলে এলাকার গ্রহণযোগ্য ও সেবামুখী ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে আরও উৎসাহিত হবেন। সাধারণ মানুষও স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন এবং নির্বাচনের পর প্রতিনিধির সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।
দিনাজপুর মেম্বার কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রসুল বাচ্চু বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চালুর মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
আগে গ্রামের বিরোধ নিষ্পত্তি, জমি-জমা সংক্রান্ত সালিশ, পারিবারিক বিরোধ কিংবা সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ইমাম, ব্যবসায়ী ও প্রবীণ মুরুব্বিদের মতামতই ছিল শেষ কথা। কিন্তু দলীয় প্রতীক চালুর পর অনেক এলাকায় সেই জায়গা দখল করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কর্মীরা।
কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য (মেম্বার) আলতাফ হোসেন বলেন, তিনি তিনবার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তখন কোনো দলীয় প্রতীক ছিল না। মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়ে সবার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চালুর পর ইউনিয়নের সামাজিক চিত্র বদলে যায়।
তার ভাষ্য, চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি হয়ে পড়েন। ফলে সমাজে বিভাজন তৈরি হয় এবং এটি ছিল শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত। তবে নির্দলীয় নির্বাচন হলে পরিষদের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক বিরোধ কিছুটা কমতে পারে।
গাজীপুরের বারিয়া ইউনিয়নের সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, দলীয় প্রতীকের কারণে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও বৈষম্য তৈরি হয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে সদস্য নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
বদলে যাওয়া গ্রামের সমাজ
গ্রামের ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আবার ব্যক্তি ও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
তাদের মতে, দলীয় প্রতীকের কারণে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং একই গ্রামের মানুষের মধ্যেও বিভেদ তৈরি হয়েছিল। আবার অনেকের মতে, প্রতীক না থাকলেও প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
কেরানীগঞ্জের কুন্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জামাল মিয়া বলেন, প্রতীক না থাকলেও দলীয় প্রভাব পুরোপুরি দূর হবে না। তবে সরকার যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে মানুষের আস্থা ফিরবে। এজন্য প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
হাসনাবাদের স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আরিফুল হক বলেন, আগে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থাকা গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাজ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন। এখন সেই জায়গায় দলীয় নেতারা চলে এসেছেন। এতে বিচার-সালিশ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব পড়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে নির্দলীয় নির্বাচনের বিকল্প নেই।
সরকারের অবস্থান
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি হবে দলীয় প্রতীক ছাড়া। তার ভাষায়, বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবেন না; জনগণের ভালোবাসা নিয়েই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বলেছেন, নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক। আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে আওয়ামী লীগসহ যেকোনো দলের নেতা কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হলেও নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধ এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে প্রতীকবিহীন নির্বাচনের প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না।
তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক ব্যবহার না করেও অনানুষ্ঠানিকভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা বা সমর্থন দেয়, তাহলে প্রতীকবিহীন নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
সুজনের নির্বাহী সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো আইনের আক্ষরিক অর্থ মেনে চললেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য উপেক্ষা করছে। দলীয়ভাবে একক প্রার্থী ঘোষণার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রতিযোগিতা কমবে, যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় সমর্থনই প্রাধান্য পাবে এবং সহিংসতার ঝুঁকিও থেকে যাবে।
ক্ষত কি সত্যিই শুকাবে?
দলীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা একটি সিদ্ধান্তেই পুরোপুরি মুছে যাবে– এমনটা মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে চেয়ারম্যান, সদস্য, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশের প্রত্যাশা, সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন, সামাজিক দূরত্ব এবং প্রতিহিংসার যে ক্ষত গ্রামীণ সমাজে তৈরি হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিও ধীরে ধীরে শুকাতে শুরু করতে পারে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








