পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু লোপাটের হিড়িক
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ AM

পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু লোপাটের হিড়িক

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/০৭/২০২৬ ০৯:৫০:০৩ AM

পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু লোপাটের হিড়িক


উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থামছে না মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন। প্রভাবশালী একটি চক্র দিনের পর দিন অবাধে বালু তুলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করছে। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে ছড়া, টিলা ও কৃষিজমি, অন্যদিকে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জানা যায়, জেলায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো অনুমোদিত ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপন দ্বারা জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে ১৯টি-কে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারা গ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কমলগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা সমূহের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।

এ ব্যাপারে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহাল পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

তবে উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত এসব বালু বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক একটি মহল। প্রশাসন এদের বিষয়ে কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে ছড়ার বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী টিলাভূমি বিনষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব।

স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনকারী চক্র খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক লাগিয়ে বালু উত্তোলনের পর ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়ি যোগে পরিবহন ও বিক্রয় করছে। প্রশাসন আসার আগেই তারা টের পেয়ে যায়। তখন স্থান ত্যাগ করে। প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পরই আবার উত্তোলন ও বিক্রয় অব্যাহত রাখে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক এড. শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, ইজারা না নিয়ে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। এটি ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। যারা অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তারা উচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেওছড়া পরিদর্শন করেছি। তবে সিলিকা বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে বুধবার দুপুরে এসিল্যান্ডকে সরেজমিনে পাঠিয়েছি। সেখানে যাওয়ার পর কাউকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য ছড়া থেকেও বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর