জুড়ীতে অটোরিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ PM

জুড়ীতে অটোরিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৬ ০৬:৩০:২৩ PM

জুড়ীতে অটোরিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার


মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল কালামকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূ ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদী থেকে আবুল কালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার আছমা বেগম (৩৮) ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তারকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা এবং আবুল কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

আবুল কালাম উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড় ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি দুটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আছমা বেগমের ননদ। আছমার স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন।

সংসারের খরচ চালাতে আছমা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেটি ভাড়ায় চালাতেন আবুল কালাম। এ কারণে আছমার বাড়িতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে আছমা ও আবুল কালামের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে আবুল কালাম আছমাদের বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা সেটি আবুল কালামের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে গলায় একাধিক কোপের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় আবুল কালামের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের সময় কালামের মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা ও তাঁর মেয়ে লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আছমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা ও আবুল কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। মামলায় আছমা ও লিমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি জানান, মা-মেয়েকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর