মৌলভীবাজারে বাড়ছে হামের রোগী, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ PM

মৌলভীবাজারে বাড়ছে হামের রোগী, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৬ ০৫:১৮:৪৪ PM

মৌলভীবাজারে বাড়ছে হামের রোগী, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ


মৌলভীবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপের মুখে পড়েছেন চিকিৎসকেরা। ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি থাকায় কোথাও কোথাও বেডের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৌলভীবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ল্যাব পরীক্ষায় তাদের মধ্যে ১৫৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। রুবেলা শনাক্ত হয়েছে দুজনের। এ সময়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তবে ল্যাব পরীক্ষার ফল পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানা গেছে। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও হামের উপসর্গসহ নানা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৭ জন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক রোগী রয়েছেন নয়জন।

হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও রোগীর চাপ রয়েছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে ৩৮ জন, শিশু স্কেনো ওয়ার্ডে ১৮ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৮১ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দুজন রোগী ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামের পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩০ জন।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের হাম ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এ পর্যায়ে মৌলভীবাজারে নতুন করে ২১ হাজার ৩৪৪ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, হামের রোগী কমে না আসা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে বড়লেখা উপজেলায় ২ হাজার ২২৯ জন, পৌরসভায় ২০৪ জন, জুড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৪৫ জন, কুলাউড়া উপজেলায় ৪ হাজার ৫৭১ জন, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩২৬ জন ও পৌরসভায় ৩৪১ জন, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৪৭৮ জন, রাজনগর উপজেলায় ৩ হাজার ২৯৩ জন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩ হাজার ৬২৬ জন ও পৌরসভায় ২৩১ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও প্রতিদিন বাড়ছে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক বলেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালটির অনুমোদিত শয্যা ২৫০টি হলেও প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চারশ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর