২০২৮ সালে চালু হবে নতুন প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম: ববি হাজ্জাজ
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩ AM

২০২৮ সালে চালু হবে নতুন প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম: ববি হাজ্জাজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/০৭/২০২৬ ০৮:১৫:৫৫ PM

২০২৮ সালে চালু হবে নতুন প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম: ববি হাজ্জাজ

ছবি : মো. সোহেল মিয়া


প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন, প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মান নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে দেশের ৮টি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগ দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। আর ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং প্রশিক্ষণ সেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল, প্রতিমন্ত্রী নিজেই প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী টানা তিনটি প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি সিলেট বিভাগের মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, কার্যকর মনিটরিং, শেখার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা বিষয়ে বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শতভাগ কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তা গোপন না করে বাস্তব তথ্য তুলে ধরতে হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সব বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হবে শিক্ষার্থীর শেখা। কতটি ভবন নির্মাণ হয়েছে বা কতটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটি নয়; বরং শিশুরা বিদ্যালয়ে এসে বাস্তবে কতটুকু শিখছে, সেটিই হবে সাফল্যের প্রধান সূচক। এ লক্ষ্য অর্জনে মাঠ প্রশাসনকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয়, বরং বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ফাউন্ডেশনাল লার্নিং শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একইসঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। তবে একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা-কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ বিদ্যালয় ভবন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, মিড-ডে মিল এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দিতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।

সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এতে সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ইউপিইটিসি ইন্সট্রাক্টররা অংশ নেন।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর