সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীহাইল শাহ-নোমান চৌধুরী স্পোর্টস একাডেমি আয়োজিত মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল।
শনিবার বিকেল ৩:৩০ টায় হোসেনপুর নালিয়া বিছড়া মাঠে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনালে নালিয়া বিছড়া একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্দারপুর ইয়াংস্টার।
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। মাঠের এক পাশে টানানো বিশাল ব্যানারে স্পোর্টস একাডেমির লোগো ও ফাইনাল ম্যাচের তথ্য দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাল্লা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কালিপদ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেকমত মিয়া, আলী রাজ, পায়েল, আশিক, মনোয়ার আহমেদ, কখন মিয়া সালেম মিয়া সহ শ্রীহাইল ও হোসেনপুর গ্রামের রাজনৈতিক নেতা ও সম্মানিত মুরুব্বিগণ ।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় “ইন্দারপুর ইয়াংস্টার” ও “নালিয়াবিছড়া একাদশ”। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় জিসানের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইন্দারপুর ইয়াংস্টার। ফলে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলে দলটি। রানার্সআপ হয় নালিয়া বিছড়া একাদশ। ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য জিশানকে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।
ম্যাচ পরিচালনা করেন রেফারি মশিউর রহমান অরূপ। তাকে সহযোগিতা করেন মানিক মিয়া ও মাজাউল। ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন লাদেন মিয়া। টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন চৌধুরী তৌহিদ এলাহী ও দিনার।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কালিপদ রায় বলেন, শ্রীহাইল গ্রামের বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে শাল্লা উপজেলায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য শ্রীহাইলের খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে এমন সুন্দর ক্রীড়া আয়োজনের জন্য স্পোর্টস একাডেমির আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকরা জানান, ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীহাইল শাহ-নোমান চৌধুরী স্পোর্টস একাডেমির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা। ভবিষ্যতে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে একাডেমিটির।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামে নিয়মিত এমন ক্রীড়া আয়োজন হলে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








