১২২ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, উৎসবের রঙে সাজছে বানিয়াচং
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ AM

১২২ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, উৎসবের রঙে সাজছে বানিয়াচং

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৬ ০৭:৫২:০২ PM

১২২ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, উৎসবের রঙে সাজছে বানিয়াচং


শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় ধীরে ধীরে উৎসবের রঙে সেজে উঠছে হবিগঞ্জের বানিয়াচং। উপজেলার ১২২টি পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও বাঁশ-কাঠের কাঠামো, কোথাও মাটির প্রলেপ, আবার কোথাও রংতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা পাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রূপ।

২০২৬ সালের শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজার মূল উৎসব শুরু হবে ১৬ অক্টোবর। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের পর ২১ অক্টোবর পালিত হবে বিজয়া দশমী। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, রং, সাজসজ্জা ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।

উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কোথাও বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমার কাঠামো, আবার কোথাও সেই কাঠামোর ওপর খড় ও মাটির প্রলেপ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীর অবয়ব। মাটির কাজ শেষ করে শুকিয়ে নেওয়ার পর শুরু হয়েছে রং ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিমা নির্মাণ একটি সময়সাপেক্ষ ও শ্রমনির্ভর কাজ। ধাপে ধাপে মাটি দিয়ে অবয়ব তৈরি, শুকানো, রং করা এবং সাজসজ্জার পর একটি প্রতিমা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়ে এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ।

মণ্ডপগুলোতে দেখা যায়, দেবী দুর্গার পাশাপাশি সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশসহ অন্যান্য প্রতিমায় নিখুঁতভাবে রঙের প্রলেপ দিচ্ছেন কারিগররা। রংতুলির প্রতিটি আঁচড়ে ধীরে ধীরে মাটির প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত।

প্রতিমাশিল্পী অনয় দাস বলেন, প্রতিমা তৈরির মতোই শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে অত্যন্ত যত্ন ও সময় নিয়ে কাজ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব কাজ শেষ করতে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।

আরেক প্রতিমাশিল্পী বিপুল সরকার বলেন, “প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। রংতুলির শেষ আঁচড় দেওয়ার পরই প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।” সময়মতো কাজ শেষ করে সুন্দরভাবে প্রতিমা তুলে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

বানিয়াচং পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সভাপতি মাধব দেব জানান, ১৬ অক্টোবর থেকে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। পূজাকে সামনে রেখে মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, দুর্গাপূজা তাদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই পূজাকে ঘিরে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই রয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে যাওয়ায় বানিয়াচংজুড়ে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

প্রতিমার কাজ শেষ হওয়ার পর ১২২টি মণ্ডপে শুরু হবে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ। সব প্রস্তুতি মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে স্বাগত জানাতে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় বানিয়াচং।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর