সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: সন্দেহভাজন আমিন আটক

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/১০/২০২৬ ০৪:৩৫:০৫ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: সন্দেহভাজন আমিন আটক


সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আমিন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গুরাগ্রাম গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় একই গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে আমিন মিয়াকে আটক করা হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক সিলেট ভিউকে বলেন, বদরুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আমিন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এদিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত যুবদল নেতা বদরুল আলমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাদ এশা হাদারপার শাহী ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া।

এর আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় বদরুল আলমের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুর খবরে গোয়াইনঘাটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেলে করে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন বদরুল আলম ও তাঁর সহযোগী সাদেক আহমদ। তাঁদের সঙ্গে নগদ ৩০ লাখ টাকা ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিহত বদরুলের ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া ও এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাদেক আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কাজ শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরার পথে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯টি গরুসহ তাঁরা গুরাগ্রামের দীঘি-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। তখন রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন আহমদ ও মামুন মিয়া এবং উপর গ্রামের আব্দুস শহিদ আহমদের ছেলে নোমান আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রধারী ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা নগদ টাকা ও গরু ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের ধারালো রামদা ও ছোরার আঘাতে বদরুল আলম ও সাদেক আহমদ গুরুতর আহত হন। তাঁদের মৃত ভেবে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।

পরদিন রোববার ভোরে পথচারীরা বদরুল ও সাদেকের আহত হওয়ার খবর তাঁদের স্বজনদের জানান। পরে তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাদেক আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলা, টাকা ও গরু ছিনতাই এবং ঘটনায় উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর