নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। ছবি: সোহেল আহমেদ
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হচ্ছে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
বেলা দুইটার পর সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মজিদ মুন্সী রায় পড়া শুরু করেন।
রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থিত হন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। আসামিদের জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক থাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর পর আজ রায় ঘোষিত হবে। কিন্তু এই রায় শুনে আমি কী করবো। আমার রায়হানকে যারা নির্যতন করে মারছে তারা তো পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনেরও জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামি জামিন পান? জামিন পেয়ে কীভাবে তাঁরা পালিয়ে যান?”
রায়হানের মা বলেন, “আজকে তো শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা তো শাস্তি পাচ্ছেন না। আসামিরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেল।”
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়।
ঘটনার পর এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায়। কনস্টেবল হারুন অর রশিদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে আটক করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযুক্তরা হলেন, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া (৩২), এএসআই আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির ‘টু-আইসি’ এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) এবং আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং ১০ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তাঁর জামিন স্থগিত করা হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার রায় ঘোষণার দিন কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হলেও অন্য পাঁচ আসামির অনুপস্থিতি এবং তাঁদের জামিনের পর পলাতক থাকার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন নিহত রায়হানের মা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









