শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

কার্তিকের বৃষ্টিতে গোয়াইনঘাটের আমনখেতে স্বস্তি, খুশি কৃষকেরা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ৩০/১০/২০২৬ ১১:০৬:২৬ পূর্বাহ্ন

কার্তিকের বৃষ্টিতে গোয়াইনঘাটের আমনখেতে স্বস্তি, খুশি কৃষকেরা


সিলেটের গোয়াইনঘাটে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে গত পরশু রাত ও আজ সকালে হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। আমন ধানের শীষ বের হওয়া ও দানা পুষ্ট হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে। পানির অভাবে যেসব জমিতে খরার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, সেখানে বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কৃষকেরা এই বৃষ্টিকে ‘আকাশ থেকে সোনা ঝরে পড়া’র সঙ্গে তুলনা করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে রোপা আমন ধানের ক্ষেত সবুজে ছেয়ে গেছে। বাতাসে দুলছে ধানগাছ। কোথাও শীষ বের হচ্ছে, আবার কোথাও ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার সময় এসেছে। এ অবস্থায় জমিতে সেচের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে সেচের বাড়তি খরচ থেকে রেহাই পেয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার কৃষক মহিবুর রহমান বলেন, “এ বৃষ্টি নয়, আল্লাহর রহমতে কৃষকদের জন্য সোনা। অতিরিক্ত খরা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কার্তিকের এই বৃষ্টিতে ধানের পাতা পরিষ্কার হয়েছে। ক্ষতিকর মাজরা পোকা ও পোকার ডিমও অনেকাংশে ধুয়ে গেছে। এতে কীটনাশক ব্যবহারের খরচ কমবে বলে আশা করছি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকমান জানান, কার্তিক মাসের বৃষ্টি আমন ধানের জন্য খুবই উপকারী। এ সময়ের বৃষ্টি ফসলের ফলন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের শীষ দ্রুত পুষ্ট হতে প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানি সহায়ক।

তিনি বলেন, এ বৃষ্টিতে ধানে চিটা হওয়ার আশঙ্কা কমতে পারে। কার্তিকের বৃষ্টি আমন চাষিদের জন্য প্রকৃতির বড় উপহার।

বৃষ্টির পর মাঠজুড়ে সবুজ ধানগাছ আর কৃষকদের চোখে-মুখে এখন ভালো ফলনের প্রত্যাশা। সেচের বাড়তি খরচ থেকে রেহাই পাওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন গোয়াইনঘাটের আমন চাষিরা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর