টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ PM

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭/০৬/২০২৬ ০২:৪৬:২২ PM

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর


যারা জনগনকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একদল লোক দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। তারা যদি দেশে অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে পারবো না। কৃষক কার্ড বিতরণ করতে পারবো না। এই যে আমরা জনগনকে সহযোগীতা করছি তা কন্টিনিউ করতে পারো না। তাই তাদের ব্যাপারে জনগনকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জনগন ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ষড়যন্ত্র করে টিকতে পারবে না। কেউ গণতন্ত্রকে নষ্ট করতে পারবে না। স্বাধীনতার আগে ও পরে সব সময় গণতন্ত্র বিনষ্টকারীরা একসাথে ছিলো। কিন্তু বিএনপি সবসময় জনগনের পাশে ছিলো।

বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ৩য় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, এটাই বিএনপির রাজনীতি। বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্ধ রেখেছি। লেখাপড়া ও খেলাধুলরি জন্য অর্থ বরাদ্ধ বাড়িয়েছি। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীতের জন্য অর্থ বরাদ্ধ রেখেছি। ৬০ টি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর শুল্ক প্রতাহার করে নিয়েছি জনগনের কথা চিন্তা করেছি। অথচ অনেকে বলেছে, তারা এই বাজেট মানে না। এই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো। কিছু কিছু লোক বলেছে।

তিনি বলেন, যেই বাজেট জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনের বাজেট, যেই বাজেটে জনগনের নানা সুবিধা দেওয়া হয়, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের মতো বলে, গণবিরোধী বলে, তারা কী জনগনের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগনের বন্ধু হতে পারে না।

যতবার এদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবার মানুষ স্বাধীন ভাবে ভোট নিতে পেরেছে ততবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগন যখন ফুঁসে উঠে গণতন্ত্রের জন্য তখন বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে দেখেছি। কিন্তু খালেদা জিয়া কখনোই জনগনকে ছেড়ে যায়নি। আমরা খালেদা জিয়ার সৈনিক। এই দেশই আমাদের ঠিকানা। আমরা এই দেশের উন্নয়নে কাজ রছি।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের টাকার উৎস নিয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তারা বলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আমরা আপনাদের সাক্ষী রেখে বলতে জাই- এগুলো জনগনের অর্থ।

অতীতে একটি দল জনগনের টাকা জনগনকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছিলো। আমরা জনগনের অর্থ পাচার হতে দেবো না। এই টাকা জনগনের কল্যানে ব্যয় হবে। ফলে টাকার অভাব হবে না।

তিনি বলেন, যারা টাকা পাচার করেছে তাদের বিরদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাজকল্যান মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে এই সিলেটে্এসে আমি কথা দিয়েছিলাম, চা শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেবো। আজকে তা শুরু হলো। আজ আমার আনন্দের দিন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। যদিও আজকে সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী একবছরের মধ্যে চা বাগানের সকল নারী শ্রমিকরে কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতণের পাশপাশি আজ ৫০ জন চা শ্রমিেকে ঘর নির্মাণের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে প্রদান করেছি। চা শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দিয়েছি। প্রায় ১৫০ জনকে আজকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যের শেষে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর