সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা মামলায় ৯ জন খালাস, একজনের মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ PM

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা মামলায় ৯ জন খালাস, একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫/০৬/২০২৬ ০২:৫২:৪৭ PM

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা মামলায় ৯ জন খালাস, একজনের মৃত্যুদণ্ড


দীর্ঘ ২১ বছর পর রায় হয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা ও হত্যা চেষ্টা মামলার। বহুল আলোচিত এ মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ এমপিসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলার ১২ জন আসামির মধ্যে ৯ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দুই আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অপর আসামি হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা নিহত হন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অন্তত ২৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

রায় ঘোষণার পর খালাস পাওয়া আসামিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ এমপি বলেন, দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের এ মামলায় হয়রানি করা হয়েছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, "আল্লাহ সঠিক বিচার করেছেন। আজ শেখ হাসিনা কোথায়, আর আমরা কোথায়?"

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, "এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।"

দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ থাকায় মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।

আজকের সিলেট/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর