ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে দেশটির বক্তব্য নাকচ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আল–জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মধ্যস্থতাকারী কাতারের প্রতিনিধিরা। ইরানও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা হচ্ছে না; তবে অন্তত পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে এবং দুই পক্ষই একে অপরের অবস্থান যাচাই করছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে থাকুক। বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হলে এরপর অন্যান্য ইস্যুতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আলোচনায় আরও রয়েছে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কীভাবে অব্যাহত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ বহাল রাখার মাধ্যমে সেই চাপ চালিয়ে যেতে চায়। তারা আরও বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যাও বাড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরানের জনগণ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এর মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যুদ্ধের প্রথম দিনেও তিনি এমন সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। এই যুদ্ধ এখন অষ্টম মাসে প্রবেশ করছে।
তারা বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যথেষ্ট ধৈর্য রয়েছে। এর অর্থ হতে পারে, তিনি যে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন—এর মধ্যে অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখা, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা কূটনৈতিক উদ্যোগ চালানো—এসব সিদ্ধান্ত প্রায় ৩৫ দিন পর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।
বিবৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইরানকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ তাদের দাবি, ইরান সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। তবে পুরো বিষয়টি মূলত কোন কাজটি আগে হবে এবং কে আগে কী বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে—সেই ক্রম নির্ধারণের ওপর নির্ভর করছে।
সুতরাং, এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া এক প্রস্তাবে ইরান সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা পেশ করেছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খোলাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য তাদের শর্তগুলো পরিষ্কার এবং তা মানার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
আজকের সিলেট / জেকেএস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








