ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন কামজং জেলায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলায় চার নাগা নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী কাংপোকপি জেলার তিনটি গ্রামে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৪১টি বাড়িসহ একটি গির্জা ও অন্যান্য স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কামজং জেলার পিলং গ্রামের কাছে বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহত চারজন হলেন ফামি জাজো, নিংথেম, বেটারসন জাজো ও ভারেইশিম জাজো। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার দায় ও এর বিস্তারিত বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে আসা সশস্ত্র ব্যক্তিদের মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা ও মাকুই থেব্রাম গ্রামে ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, মাকুই চাম্রিউপিউতে ১৭টি, মাকুই থানাম্বায় ৮টি এবং মাকুই থেব্রাম গ্রামে ১৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মোট ৪১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া সহিংসতা রাত আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা চলে। এ সময় একটি গির্জাসহ আরও কিছু স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার পর বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর তামেই মহকুমার লাসানে ওয়াকোটফাই এলাকার বাসিন্দা পাওজাঙ্গাম চংলোই নিহত হন। স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে তাকে সশস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ঘটনাটির পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক অবাংবাউ নিউমাই। তিনি কামজং ও কাংপোকপির সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে হিংসার পথ ছেড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমাজে এ ধরনের পাশবিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং সরকার এটি কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
নতুন করে সহিংসতার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে জাতিগত সংঘাতের জেরে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। বিভিন্ন সময় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








