‘বিএনপি-জামায়াত নয়, এটা আওয়ামী-জামায়াত’: জ্বালানিমন্ত্রী
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ PM

‘বিএনপি-জামায়াত নয়, এটা আওয়ামী-জামায়াত’: জ্বালানিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ০৯:৩৯:৩৫ AM

‘বিএনপি-জামায়াত নয়, এটা আওয়ামী-জামায়াত’: জ্বালানিমন্ত্রী


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের জনসভায় তিনি বিএনপি-জামায়াতের পরিবর্তে ‘আওয়ামী-জামায়াত’ বলেছিলেন। তখন তার অনেক বন্ধু ও সহযোদ্ধা বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আগে বলা হতো বিএনপি-জামায়াত। ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের জনসভায় আমি বলেছিলাম, বিএনপি-জামায়াত না, এটা আওয়ামী-জামায়াত। তখন আমার অনেক বন্ধু-সহযোদ্ধা আমার প্রতি বিরক্ত হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করি, আমরা জামায়াতকে চিনি, তারা কী জিনিস।”

জুলাই আন্দোলনের পর জামায়াতের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যারা আগে ছাত্রলীগ (বর্তমান নিষিদ্ধ সংগঠন), যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে ছিলেন। তার ভাষায়, “পতনের পর সবাই হয়ে গেল বিপ্লবী। আজ যে আমাদের মধ্যে নেই, তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। এরা হলো গুপ্ত বাহিনী।”

আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও বক্তব্য দেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজকে আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার এত সাহস যে পতনের পরে ভারতে গিয়ে বসে আছেন। সেখান থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে হুংকার দিচ্ছেন-তারেক রহমানের সরকারকে পতন করিয়ে দেবেন।”

সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণ যে কদিনের জন্য আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা সে কদিন দায়িত্ব পালন করবো। হুমকি-ধামকি দিয়ে কিছু হবে না।”

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের আমলে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে জেলার এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যিনি আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত হননি। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের অন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা যখন ভারী হয়ে উঠেছিল, তখনই জুলাই বিপ্লব হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই বিপ্লবীদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। তারেক রহমান যে সব ওয়াদা জনগণের কাছে করেছিলেন, তা পালন করা শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ভাতা দেওয়াও শুরু হয়েছে।”

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আইনগত প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাড়িতে বসে বসে খাচ্ছেন জানি, মামলার আসামি আপনারা; পুলিশ কেন ধরছে না তাও জানি। চাইলে আমার বাহিনী দিয়ে বাড়ি থেকে উঠিয়ে এনে শাস্তি দিতে পারি। কিন্তু আমরা আইনের শাসন মানি। পুলিশ আছে, বিভিন্ন বাহিনী আছে- যারা আসামি তাদের গ্রেপ্তার করবে। আমরা করব না। তার অর্থ এই নয়, আপনারা ম্যানেজ হয়ে চলবেন।”

সিরাজগঞ্জকে শান্তির শহর হিসেবে দেখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সিরাজগঞ্জকে শান্তির শহর দেখতে চাই। কিন্তু কারও দ্বারা যদি সিরাজগঞ্জ শহরে শান্তি ভঙ্গ হয়, তাদের ছেড়ে দেব না।”

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম এমপি। এছাড়া বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের ভিপি আইনুল হক এবং সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর