শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

মাধবপুরে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের এক মাস, আসামিদের গ্রেফতার ও উদ্ধারের দাবি পরিবারের

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭/১০/২০২৬ ০৪:০৭:১৯ অপরাহ্ন

মাধবপুরে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের এক মাস, আসামিদের গ্রেফতার ও উদ্ধারের দাবি পরিবারের


হবিগঞ্জের মাধবপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তারের সন্ধান মেলেনি। তাকে অপহরণের অভিযোগে করা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। মেয়েকে জীবিত উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাহমিনার বাবা নূর আলী।

এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে বানেশ্বর গ্রামের কবরস্থানের পাশ থেকে তাহমিনাকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাহমিনা মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের জোয়ালভাঙা গ্রামের নূর আলীর মেয়ে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে জোয়ালভাঙা গ্রামের এলাম মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২০), শাহ আলম মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (২১), মৃত আরজু মিয়ার ছেলে এলাম মিয়া (৫০) এবং মৃত নূর ইসলামের ছেলে শাহ আলম মিয়াকে (৪৫)।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তাহমিনাকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার পর ১৯ সেপ্টেম্বর মাধবপুর থানায় মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন নূর আলী। পরে আদালতে নারী নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

নূর আলী বলেন, “আমার মেয়েকে অপহরণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো খুঁজে পাচ্ছি না। আদালতে মামলা করার পর আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানতে পারছি। আমি পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচার চাই। আমার মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হোক। সে বেঁচে আছে কি না, অন্তত সেই খবরটুকু জানতে চাই।”

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের অধিকাংশের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তপক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মৃদুল হাসান তরফদার বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বাদীপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগিতা করলে তদন্ত ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “নির্দোষ কাউকে গ্রেফতার করতে চাই না।”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর