বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

ওসমানীনগরে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

ওসমানীনগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৬ ০৮:৩৪:৫০ অপরাহ্ন

ওসমানীনগরে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ


সিলেটের ওসমানীনগরে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি-বাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই প্রবাসী ভাইয়ের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদালতের নির্দেশের পরও সেখানে বসবাস ও দখল অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের সম্পত্তিতে অবস্থানের দাবি করেছেন অভিযুক্ত ভাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চন্ডিতিয়র (কাজীবাড়ি) গ্রামের মৃত মদরিস আলীর চার ছেলে হলেন মৃত মসওয়্যারুল ইসলাম, মৃত সিরাজুল ইসলাম, মো. মকবুল আলী ও মো. মোফাজ্জল আলী। তাঁদের মধ্যে সৎমায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া দুই ভাই মারা গেছেন এবং আপন দুই ভাই জীবিত আছেন। পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত জমি-বাড়ির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছে।

এ বিরোধের জেরে গত মার্চে সিলেটের দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব (বাটোয়ারা) মামলা করেন মকবুল আলী। মামলাটির নম্বর ৯৪/২০২৬। গত ২৮ জুলাই আদালত বিবাদীপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। জবাব না পাওয়ার পর সম্পত্তির দখল ও বাড়ির প্রকৃতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় বাদীপক্ষ আবার আবেদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।

গত ১২ অক্টোবর আদালতের জারিকারক মো. শফিক মিয়া বিরোধপূর্ণ বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাননি। পরে বিবাদীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর রাজমিস্ত্রির ঠিকাদার আনছার মিয়া এসে আদালতের জারি করা আদেশ গ্রহণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পরদিন ১৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ওসমানীনগর থানার সেকেন্ড অফিসারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় বিরোধপূর্ণ জায়গায় মোফাজ্জল আলীর পক্ষের লোকজনের বসবাস ও দখল থাকার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী মকবুল আলীর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর দুই সৎ ভাই প্রবাসে থাকার সুযোগে ছোট ভাই মো. মোফাজ্জল আলী জমি-বাড়িসহ তাঁদের সম্পত্তি বণ্টন না করেই এককভাবে ভোগদখলে রেখেছেন।

বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মকবুল।

তিনি বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের নির্দেশনার পরও যদি বসবাস ও দখল অব্যাহত থাকে, তাহলে আদেশের কার্যকারিতা কোথায়? আমি আমার সম্পত্তির ন্যায়সংগত অধিকার ফিরে পেতে চাই।”

মো. মোফাজ্জল আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাটোয়ারার পর তিনি নিজের সম্পত্তিতেই অবস্থান করছেন। তাঁকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের যোগসাজশে তাঁকে দখলবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের পর বিরোধপূর্ণ বাড়ি ও জমির কোনো পরিবর্তন করা বা সেখানে নতুন করে বসবাসের সুযোগ নেই। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তি যে অবস্থায় রয়েছে, সে অবস্থায়ই রাখতে হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর