শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন

বার বার ভঙ্গ হচ্ছে অনুমতির শর্ত, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে নগরবাসী

জনি কান্ত শর্মা

প্রকাশিত: ২৩/১০/২০২৬ ০৯:৩১:৪৫ অপরাহ্ন

বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে নগরবাসী

সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে নগরীতে দীর্ঘ যানজট


সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে মাসব্যাপী ‘সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬’ আয়োজনকে ঘীরে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। মেলা উপলক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী (প্রাইভেট সিকিউরিটি) নিয়োগের কথা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি আয়োজক প্রতিষ্ঠান সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এর ফলে নগরীর বালুচর পয়েন্ট থেকে শাহ ঈদগাহ পয়েন্ট পর্যন্ত ছুটির দিনেও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এমনকি জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য যানবাহনও যানজটে আটকে পড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে মেলাকেন্দ্রিক যানজটকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নগরবাসীর মধ্যে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বালুচর পয়েন্ট থেকে শাহ ঈদগাহ পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী যানবাহন আটকে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজট নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত জনবল মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু মেলা আয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকায় এর চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। মাসব্যাপী মেলার আয়োজন ঘিরে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বালুচর থেকে শাহ ঈদগাহ পর্যন্ত সড়কটি সিলেট নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি। স্বাভাবিক সময়েও এই সড়কে যানবাহনের চাপ থাকে। এর পাশেই রয়েছে হার্ট ফাউন্ডেশন, যেখানে হৃদ্‌রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অ্যাম্বুল্যান্সসহ বিভিন্ন যানবাহনকে নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে মাসব্যাপী মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যানজটে আটকে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের প্রতিটি মুহূর্ত রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অথচ যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সচেতন নগরবাসীর প্রশ্ন, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এমন আয়োজনের ক্ষেত্রে যানজট নিয়ন্ত্রণ, জরুরি যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের মেলার অনুমতি পত্রে তা উল্লেখ তাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রসাশনও তার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে জানান তারা।

শুধু যানজট নয়, ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলার আয়োজন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে। তাদের মতে, খেলার মাঠ শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সামাজিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে মেলার আয়োজন করা হলে মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রথমত, খেলার মাঠে মেলা আয়োজন করা কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। এতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, এই এলাকার পাশেই হার্ট ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে যানজট বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালে এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে।

তাদের অভিযোগ, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, মাঠের ব্যবহার এবং যান চলাচলের বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে মেলা আয়োজনের অনুমতি, নির্দিষ্ট শর্ত ভঙ্গ করা হচ্ছে।

মেলার যানজট নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ব্যবহারের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হলেও মাঠপর্যায়ে তাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। ফলে ট্রাফিক পুলিশকে নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে ‘একটু পরে কথা বলছি’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, বালুচর থেকে শাহ ঈদগাহ পর্যন্ত মেলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই রাস্তাটি অনেক ব্যস্ততম হওয়ায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে হার্ট ফাউন্ডেশন থাকায় এই সড়কে অ্যাম্বুল্যান্সও চলাচল করছে। আমরা যতটুকু সম্ভব যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়োজক কমিটিকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। তারা একজন-দুজন করে লোক দিচ্ছেন। কিন্তু তারা অভিজ্ঞ নন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তও নন। প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও আয়োজকদের জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাধারণ ডিউটির অতিরিক্ত সময় এই যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হচ্ছে। এখানে যানজট নিয়ন্ত্রণে আমাদের অতিরিক্ত সদস্য কাজ করছেন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর