সিলেট নগরীতে মশার উপদ্রব কমাতে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রমের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বুধবার সকালে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি শুরু করে সিসিক। এর উদ্বোধন করেন প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। পরে তিনি নিজেই ফগার মেশিন হাতে নিয়ে মশা নিধন কার্যক্রমে অংশ নেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের নির্দেশ দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন সতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “যদিও সিলেটে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীরা বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন, তবুও আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
প্রশাসক জানান, সিলেট নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিসিকের স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও চলবে।
মশার বংশবিস্তার রোধে শুধু ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সিসিক। এ জন্য বাসাবাড়ি, ছাদ ও আঙিনায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
নগরবাসীকে সচেতন করতে মসজিদ, মার্কেট ও বিভিন্ন মহল্লায় লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এ কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মশক নিধনকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









