বালাগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর খন্দকার জাকিয়া শামছি ঢাকায় বসে, উপজেলায় অফিস না করে বেতন ভাতা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি মাসেও মাত্র দুই কর্মদিবস অফিস করেন রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর খন্দকার জাকিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা বালাগঞ্জে চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে প্রতি মাসে এক-দুই দিন নিজের ইচ্ছে মেতা অফিসে আসা-যাওয়াই যেন তার নিজস্ব নিয়মেই পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষ সহ শিক্ষকদের মাঝে আলোচনা- সমালোচনার ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওই কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব বালাগঞ্জ উপজেলায় এবং ওসামনীনগর উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্ব। দুইটি উপজেলার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজ ইচ্ছে মতো চলছেন এ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা জানান, ইন্সট্রাক্টর জাকিয়া গত ৪ মাসে একদিনও বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে যান নি। রাজধানীতে বসে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন, আমরা কেউ কথা এ বিষয়ে বললে নানান বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হবে।
তারা আরও জানান, ইন্সট্রাক্টর হিসেবে জাকিয়া নামে একজন বালাগঞ্জে যোগদান করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে সরাসরি দেখেন নি অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অনিয়মের শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ ইউআরসি জাকিয়ার বিরুদ্ধে কথা বললে স্থানীয় একাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের লেলিয়ে দেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, দুর্নীতিবাজ ইউআরসি জাকিয়ার অফিস ফাঁকির বিষয়ে সংবাদ করতে মুঠোফোনে বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হয়। ব্যস্থ আছেন বলে ফোন কেটে দিয়ে স্থানীয় এক শিক্ষককে লেলিয়ে দেন ওই কর্মকর্তা, যাতে সংবাদ প্রকাশ করা না হয়। এতে ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক ভাবে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এক অভিযোগ করেন বালাগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর জাকিয়া।
অফিস ফাঁকির বিষয়টি স্বীকার করে বালাগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর খন্দকার জাকিয়া শামছি বলেন, বালাগঞ্জে যোগদানের পরে থাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি, পরিবার ঢাকায় থাকেন। আমার অফিসে সেরকম কোনো জরুরী কাজ নেই যে প্রতিদিন খুলতে হবে। তাছাড়াও অফিসে অফিস সহায়কও নেই, অফিসের চাবিও আমার কাছে নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক জানান, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ভিত্তিহীন অভিযোগের ব্যাপারে কোনো ধরণের কমেন্টস করতে চান না তিনি।
যোগদানের পর থেকে অফিস না করার বিষয়ে সিলেট পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট একেএম. সাইফুল হাসান বলেন, আমার কাছ থেকে তো ছুটিও নিয়ে যায় নাই। আমি তো জানি সবাই অফিস করতেছে। কিন্তু এখন জানতে পারলাম সে অফিস করছে না। বিষয়টি আমি দেখবো।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি 








