দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জওয়ানেকে দেওয়া লাল কার্ড ও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। দলের প্রধান কোচ হুগো ব্রুস এই শাস্তিকে ‘অতিরিক্ত কঠোর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
একই সঙ্গে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির একটি ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়েও।
মেক্সিকোর বিপক্ষে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন জওয়ানে। পরে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগে তাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে মেসির একটি ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও কোনো শাস্তি পেতে হয়নি তাকে। ম্যাচে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আইসা মান্দির গোড়ালির পেছনের অংশে আঘাতের পরও ভিএআরের হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি।
মেসিকে লাল কার্ড না দেওয়া ও জওয়ানেকে লাল কার্ডের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় চটেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
“আমি চাই না, মেসি লাল কার্ড দেখুক। তার মতো একজন খেলোয়াড়ের মাঠে থাকা উচিত। আমরা সবাই জানি, তিনি কতটা অসাধারণ ফুটবলার। কিন্তু পার্থক্যটা কোথায়?”
“ঘটনাটা আমি থেম্বার সঙ্গে বসে দেখেছি। আমার কাছে এটা লাল কার্ডের মতো মনে হয়নি। আর মেসির ঘটনাটার সঙ্গে তুলনা করলে, আমি একেবারেই একমত হতে পারছি না। মেসির ক্ষেত্রে ভিএআর রিভিউও হয়নি, অথচ এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে দেখা হয়েছে।”
ম্যাচের ৬১তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন ৩৬ বছর বয়সী জওয়ানে। ২৩ মিনিট পরই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা তখন আক্রমণে ছিল। ব্রুসের দাবি, মেক্সিকোর ডিফেন্ডার আগে তার খেলোয়াড়কে আটকে দেন।
“মেক্সিকোর খেলোয়াড় বলের দিকে তাকাচ্ছিল না, শুধু জওয়ানেকে আটকে রেখেছিল। জওয়ানে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, প্রতিপক্ষের কাঁধের ওপর হাত রেখেছে। এজন্য লাল কার্ড ও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা! আমার কাছে এটা অত্যন্ত কঠোর শাস্তি।”
এই শাস্তির বিরুদ্ধে তাই আপিল করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। যা সফল না হলে শেষ ষোলোতে ওঠার আগে আর মাঠে নামতে পারবেন না জওয়ানে। দক্ষিণ আফ্রিকা যদি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়, তবেই কেবল তার ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।
আজকের সিলেট/এপি
ক্রীড়া ডেস্ক 








