লতিকচু চাষে সফল কৃষক এমরান
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ AM

লতিকচু চাষে সফল কৃষক এমরান

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৭/২০২৬ ০৮:৩৩:১১ AM

লতিকচু চাষে সফল কৃষক এমরান


কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাহুবল উপজেলার শিমুলিয়াম গ্রামের কৃষক মো. এমরান মিয়া। এক সময় যে লতিকচুর আবাদ এ অঞ্চলে খুব একটা দেখা যেত না, সেই লতিকচুই এখন তার জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৩৩ শতক জমিতে বারি-লতিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন। লতিকচুর পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিজ বাড়ির পাশের জমিতে প্রদর্শনী প্লট হিসেবে এই চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রকল্পের সহায়তা ও উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আধুনিক পদ্ধতিতে লতিকচুর আবাদ করে এমরান মিয়া প্রমাণ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে নতুন জাতের লাভজনক ফসল চাষ করলে অল্প পুঁজিতেও ভালো আয় করা সম্ভব।

সরেজমিনে শিমুলিয়াম গ্রামে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা জমিজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বেড়ে উঠছে লতিকচুর গাছ। প্রতিদিন ভোর থেকে শ্রমিকদের নিয়ে জমি থেকে লতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি উন্নতমানের চারা উৎপাদন করে স্থানীয় কৃষকদের কাছেও বিক্রি করছেন তিনি। ফলে একই জমি থেকে দ্বিমুখী আয় হচ্ছে।

কৃষক এমরান মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীমের পরামর্শে চলতি বছরের ১৭ মার্চ প্রায় ৩৩ শতক জমিতে বারি-লতিকচু-১ জাতের প্রায় ৪ হাজার চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, চারা সংগ্রহ, সার, সেচ, পরিচর্যা ও অন্যান্য খাতে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। রোপণের প্রায় এক মাস পর থেকেই লতিকচু সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে নিয়মিত লতি বিক্রির পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুরুতে নতুন ফসল হওয়ায় কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারেও এর ভালো চাহিদা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে লতিকচুর চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক কৃষক আমার খেত দেখতে আসছেন এবং লতিকচু চাষ সম্পর্কে জানতে চাইছেন। আমি নিজেও কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, কৃষকদের লাভজনক ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এমরান মিয়া সেই পরামর্শ বাস্তবায়ন করে চমৎকার সফলতা পেয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে তিনি প্রতি কেজি লতিকচু ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন বেশি থাকায় তিনি লাভবান হচ্ছেন। তার সফলতা দেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও লতিকচু চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, আগে এলাকায় লতিকচুর চাষ খুব একটা দেখা যেত না। এমরান মিয়ার খেত দেখে তারা উৎসাহিত হয়েছেন। অল্প খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় আগামী মৌসুমে তারাও এই ফসলের আবাদ করতে চান।

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করতে সরকারিভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, উন্নত জাতের বীজ ও চারা সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। লতিকচু একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের সবজি। বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এমরান মিয়ার সফলতা প্রমাণ করেছে যে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং কৃষকের আন্তরিক প্রচেষ্টা একসঙ্গে থাকলে স্বল্প বিনিয়োগেও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাহুবল উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। কৃষি বিভাগের লক্ষ্য হলো এমন আরও সফল কৃষক তৈরি করা, যাতে কৃষির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয় এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হয়।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর