দেশে গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতার সঙ্গে বর্তমান সরবরাহের ব্যবধান বেড়েছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ হিসাবে, গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি হলেও বর্তমানে উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫১৯ এমএমসিএফডি ঘাটতি রয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত উৎপাদনের হিসাব ধরে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি রাষ্ট্রীয় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)—এর মোট ৭৬টি উৎপাদনশীল কূপ রয়েছে। এসব কূপের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ১৩৯ এমএমসিএফডি। বর্তমানে সেখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৭৩২ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের ১৭টি উৎপাদনশীল কূপের দৈনিক সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে এসব কূপ থেকে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ১৩৮ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি। ফলে সক্ষমতার তুলনায় প্রতিদিন ৪ দশমিক ২ এমএমসিএফডি কম উৎপাদন হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় অন্য দুই প্রতিষ্ঠানের চিত্র আরও বড় ঘাটতির। বিজিএফসিএলের ৪৪টি কূপের সম্মিলিত সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪৮৪ দশমিক ১ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাস থেকে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ৩৩১ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি।
বাপেক্সের ১৫টি কূপের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডি। বর্তমানে এসব কূপ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১০৯ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি গ্যাস।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর (আইওসি) ৪৩টি কূপের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৯০০ দশমিক ২ এমএমসিএফডি।
জাতীয় পর্যায়ের এই ঘাটতির মধ্যেও সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের কূপগুলোতে সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি তুলনামূলক কম। তবে সিলেটের গ্যাস উৎপাদনের এই ব্যবধানও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, স্থানীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ করে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৭০২ দশমিক ১ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন ও এলএনজি সরবরাহের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









