উপাচার্য অপসারণের দাবিতে সিকৃবির ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ PM

উপাচার্য অপসারণের দাবিতে সিকৃবির ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭/০৯/২০২৬ ০৫:১৩:১৭ PM

উপাচার্য অপসারণের দাবিতে সিকৃবির ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ


সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগের আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপাচার্যকে অপসারণের দাবিও জানান তারা।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন এবং দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার।

এ ছাড়া ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা দাবি করেন, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম এবং দুর্নীতি হয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তাকে যখন-তখন শোকজ করা হচ্ছে এবং নানা উপায়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই—এমন ব্যক্তিদেরও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষকদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে তারা বর্তমান উপাচার্যকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।

পদত্যাগকারী শিক্ষকদের অন্যতম প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান উপাচার্যকে দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।’

তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

উপাচার্যের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর