পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী এমই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার সময় একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয় ও কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে এ ঘটনায় অন্তত ২৮ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্তানদের অসুস্থতার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও হাসপাতালে ছুটে আসেন।
বিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থদের বেশির ভাগই নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রী।
বিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান সোহাগ জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার পর তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরে কলেজ বাজার এলাকার চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত তাদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত অন্তত ২৮ শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় সহপাঠী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন অভিভাবকরা। এ সময় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
একাধিক শিক্ষক জানান, ক্লাসের মাঝখানে লেইজার বা দুপুরের বিশ্রামের সময় একে একে ছাত্রীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এ সময় বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক ইকবাল হোসেনও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে সহপাঠীরা জানায়, একজন অসুস্থ হওয়ার পরপরই অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যালয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
তবে ঘটনাটিকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখছেন না চিকিৎসকরা। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ‘মেডিকেল সায়েন্সে এটিকে মাস সাইকোজেনিক ইলনেস বলা হয়। একজনের অসুস্থতা দেখে অন্যজনও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। মানসিক প্রভাবের কারণে এমনটি হয়ে থাকে। ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নেই। সবাইকে সাধ্যমতো যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাই সুস্থ হয়ে যাবে।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চললেও তাদের স্বজনদের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









