সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

দুই দিনের সপ্তমীতে পূজার আমেজ, সিলেটজুড়ে দেবীবন্দনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮/১০/২০২৬ ১২:০২:১৫ অপরাহ্ন

দুই দিনের সপ্তমীতে পূজার আমেজ, সিলেটজুড়ে দেবীবন্দনা

দুই দিনের সপ্তমীতে পূজার আমেজ, সিলেটজুড়ে দেবীবন্দনা। ছবি: সোহেল আহমেদ


শরতের আকাশে উৎসবের রং, শিউলির সুবাসে মাখামাখি সকাল, আর ঢাকের বোলের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবন্দনা এভাবেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সিলেট। তিথির বিশেষ বিন্যাসে এবার সপ্তমী এসেছে দুই দিনের জন্য। শনিবারের পর আজ রোববারও সপ্তমী তিথি ঘিরে পূজার আবহে মুখর জেলা ও মহানগরের পূজামণ্ডপগুলো। দেবীর আরাধনা, পুষ্পাঞ্জলি আর উৎসবের মিলনমেলায় দিনটি কাটছে ভক্তদের।

এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে ৪৭৪টি সর্বজনীন ৪৪৮টি ও পারিবারিক ২৬টি। মহানগর এলাকায় রয়েছে ১৬৩টি মণ্ডপ, যার ১৪৭টি সর্বজনীন ও ১৬টি পারিবারিক। প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব আয়োজন, সাজসজ্জা আর আরাধনায় ফুটে উঠেছে উৎসবের বৈচিত্র্য।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর তিথির বিশেষ অবস্থানের কারণে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিনই সপ্তমী পালিত হচ্ছে। ফলে দুর্গোৎসবের আনন্দও পেয়েছে বাড়তি একটি দিন। তবে তিথি দুই দিন বিস্তৃত হলেও পূজার আচার-অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময় পঞ্জিকা ও মণ্ডপের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

সপ্তমী দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিনের পূজার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নবপত্রিকা স্থাপন, দেবীর আরাধনা ও পুষ্পাঞ্জলির মতো ধর্মীয় আচার। ভক্তরা দেবীর চরণে ফুল অর্পণ করে প্রার্থনা করছেন পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য। পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা, আলোকসজ্জা আর উৎসবের আবহে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিলেটের শরৎ।

উৎসবের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী। এদিনের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে কুমারীকে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধা ও আরাধনা করা হয়। সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে অবস্থিত শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে সকাল সাড়ে ১০টায় কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। মহাষ্টমীর অঞ্জলি ও অন্যান্য ধর্মীয় আচারেও অংশ নেবেন ভক্তরা।

এরপর ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে এলেও তার আগে আরও কয়েকটি দিন দেবীবন্দনা, প্রার্থনা আর সম্প্রীতির বার্তায় রঙিন হয়ে উঠবে সিলেট।

শরতের এই উৎসব কেবল দেবীর আরাধনা নয়; এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনেরও উপলক্ষ। ঢাকের প্রতিটি বোল, ধূপের প্রতিটি ধোঁয়া আর প্রদীপের প্রতিটি শিখায় যেন উচ্চারিত হচ্ছে একটাই প্রত্যাশা অশুভের বিনাশ হোক, শুভের জয় হোক, সবার জীবনে আসুক শান্তি ও কল্যাণ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর