সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

মাধবপুর ভূমি অফিসে জনবল সংকট, প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত সেবাগ্রহীতারা

শেখ ইমন আহমেদ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ২৫/১০/২০২৬ ০৭:৪৫:৩০ অপরাহ্ন

মাধবপুর ভূমি অফিসে জনবল সংকট, প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত সেবাগ্রহীতারা


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। কানুনগো ও সার্ভেয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি পদের মধ্যে ১০টিই শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে ভূমিসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

ভূমি সংক্রান্ত সেবা দ্রুত ও সহজে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ই-নামজারিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করা হলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতারা বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদ কানুনগো। কানুনগো সাইফুদ্দিন আহমেদ ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে প্রায় ছয় বছর ধরে পদটি শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম প্রায় চার মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে যোগদান করেন। বর্তমানে সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন মাধবপুর ভূমি অফিসে কানুনগোর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কাজের অগ্রাধিকার নিয়ে কিছু সেবাগ্রহীতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।

এ ছাড়া ভূমি অফিসে চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। ১৮টি পদের মধ্যে ১০টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।

মাধবপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এগুলো হলো—মনতলা, মাধবপুর সদর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জুনাইদ আহম্মদ বলেন, আয়তনের দিক থেকে মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এর আওতায় রয়েছে ৯৯টি মৌজা। ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে দুইজন কর্মকর্তা ও দুজন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন।

তিনি বলেন, এলাকায় বালুমহাল থাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে যেতে হয়। জনবল সংকটের কারণে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

মাধবপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে দুটি এবং নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও দুটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব কার্যালয়ে নিয়মিত ভূমিসেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, তাঁর কার্যালয়ে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমি সংক্রান্ত কাজের চাপও বেড়েছে। জনবল সংকটের কারণে দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও অনেক সময় ছুটি নেওয়া সম্ভব হয় না।

আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট। সেখানে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন।

জনবল সংকটের কারণে ভূমিসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যে এ সংকট কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অফিসের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা না হলে ই-নামজারিসহ অন্যান্য ডিজিটাল ভূমিসেবার কার্যক্রমের গতি আরও কমে যেতে পারে। এতে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভোগান্তিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর