মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

ধর্মীয় ট্যাগে নারী-পুরুষকে হেনস্তা, নেপথ্যে কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭/১০/২০২৬ ১১:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন

ধর্মীয় ট্যাগে নারী-পুরুষকে হেনস্তা, নেপথ্যে কারা?


সিলেটে রেস্টুরেন্ট, পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদন স্পটে যাওয়া নারী-পুরুষের গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ধর্মীয় পরিচয়ের ট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের একটি ঘটনায় সিলেট মহানগরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গোপনে ছবি তোলার ঘটনায় দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে সিলেট মহানগরের কাষ্টঘর এলাকার এক বাসিন্দা এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁদের ছবি গোপনে ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানি করা হয়।

ভুক্তভোগী যুবকের দাবি, ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ থেকে তাঁর ও ওই নারীর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার, হয়রানি এবং ধর্মীয় উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁদের দুজনের পাশাপাশি পরিবারের সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক সিলেট কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততা শনাক্ত করে এবং রোববার রাতে তাঁদের আটক করে।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তাঁরা জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষের পাশের টেবিলে বসেছিলেন। ওই যুবকেরাই দূর থেকে ছবি তুলে দিতে তাঁদের বলেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবির ফ্রেমে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষও চলে আসেন। পরে ওই যুবকেরা ছবি ক্রপ করে শুধু তাঁদের অংশটুকু আলাদা করেন এবং ধর্মীয় ট্যাগ দিয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সিলেটের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদন স্পটে ঘুরতে যাওয়া নারী-পুরুষকে লক্ষ্য করে একদল যুবকের বিরুদ্ধে হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহননের অভিযোগ উঠছে।

অভিযোগ রয়েছে, ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে কিছু ব্যক্তি সাধারণ পর্যটক ও তরুণ-তরুণীদের কাউকে ‘হিন্দু’, কাউকে ‘মুসলিম’ আখ্যা দিয়ে ভীতি ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ইসকনের দোসর’সহ বিভিন্ন উসকানিমূলক ট্যাগ ব্যবহার করে জোরপূর্বক ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি নগরীর আম্বরখানা এলাকায় এ ধরনের আরেকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সেখানে ঘুরতে যাওয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে একদল যুবকের হট্টগোল ও বিক্ষোভের মুখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক কয়েকজনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেটের সচেতন মহল। তাঁদের বক্তব্য, কোনো তরুণ-তরুণী ভুল পথে পরিচালিত হলে কিংবা অপরাধে জড়ালে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তাঁদের অভিভাবক ও পরিবারের। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এর বাইরে পরিচয়হীন বা আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ব্যক্তিরা কীভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

সচেতন নাগরিকেরা এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম (বিপিএম) সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, ছবি-ভিডিও ধারণ করে হয়রানি এবং সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর