সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০০। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই রোগে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে নতুন করে ২৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাম-উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০০ জন। তবে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক কার্যালয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ২ জন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছেন।
নতুন রোগীসহ বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১৩ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৭ জন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ৪ জন রয়েছেন। অন্য রোগীরা বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৮০৭ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। জেলাভিত্তিক হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা সিলেটে ১৭৭, সুনামগঞ্জে ১৮৬, হবিগঞ্জে ৩৪৩ এবং মৌলভীবাজারে ৭৪ জন। এ ছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে আসা ২৭ জন রোগীও সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত না হলেও হাম-উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০০ জন। তাঁদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪০ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। বাকি রোগীরা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নতুন রোগীদের নিয়ে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১০ জন। তাঁদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৩ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫৭ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত হাম ও হাম-উপসর্গে মোট ২০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু ও হাম কোনো রোগেই মৃত্যুর খবর না আসায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









