গ্যাস সরবরাহ শুরু, ফের কর্মচঞ্চল হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ AM

গ্যাস সরবরাহ শুরু, ফের কর্মচঞ্চল হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০৮/২০২৬ ১২:১৭:৪৮ PM

গ্যাস সরবরাহ শুরু, ফের কর্মচঞ্চল হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল


দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটিয়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে কারখানাগুলোতে। কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারা। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে এখনো সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, নতুন কোনো সমস্যা দেখা না দিলে দ্রুতই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় ২০ দিন ধরে সংকট চললেও অল্প পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিল প্রতিষ্ঠানগুলো। এর বড় একটি অংশ ছিল রপ্তানি আয়। পাশাপাশি একের পর এক বৈদেশিক অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

তবে গ্যাস কর্তৃপক্ষ শিল্পসংশ্লিষ্টদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাস অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শনিবার সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে। শনিবার সকাল থেকেই কারখানা চালু করা সম্ভব হয়েছে। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি ভালো হয়েছে।

আবুল বাশার আরও বলেন, মিল বন্ধ থাকলে আমাদের মধ্যে পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। এখন গ্যাস সরবরাহ যেন নিয়মিত ও স্বাভাবিক থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

স্কয়ার ডেনিমের লি. এর মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা শুরু হলেও পুরোপুরি গ্যাস পাওয়া গেছে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। গ্যাস সরবরাহ চালু হলেই সঙ্গে সঙ্গে মেশিন চালু করা যায় না। সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর শনিবার সকালে জেনারেটর চালু করে মিলের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কারখানা চালু হওয়ার পর সবাইকে এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে।

কারখানার শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছিল। কারখানা যদি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে চাকরি থাকবে কি না—এমন চিন্তা ছিল। মালিক কতদিন লোকসান দিয়ে আমাদের বেতন দেবেন, সেটিও ভাবনার বিষয় ছিল। শনিবার থেকে কাজে ফিরতে পেরে এবং কারখানা চালু হওয়ায় আমরা খুব আনন্দিত।

আরেক শ্রমিক মাসুক মিয়া বলেন, কয়েকদিন কারখানা বন্ধ থাকায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন আবার কাজে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। যারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি, তাদের জন্য বেকার সময় কাটানো অনেক কষ্টের।

শ্রমিক রাহেলা আক্তার বলেন, কারখানা বেশি দিন বন্ধ থাকলে একসময় চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতো। তখন সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত। মালিকও কতদিন লোকসান দিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবেন, সেটিও বড় বিষয়। মালিকের আয় হলে তবেই আমাদের বেতন দেওয়া সম্ভব। তাই কারখানা চালু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর