দোয়ারাবাজারে পুত্রবধূ কতৃক শ্বশুরকে হত্যা: আটক ৩
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ AM

দোয়ারাবাজারে পুত্রবধূ কতৃক শ্বশুরকে হত্যা: আটক ৩

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০৮/২০২৬ ০৩:৪১:২১ PM

দোয়ারাবাজারে পুত্রবধূ কতৃক শ্বশুরকে হত্যা: আটক ৩


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার এলাকায় জমিজমা লিখে না দেওয়ার জের ধরে প্রবীণ এক বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ​গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— নিহতের পুত্রবধূ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮); হত্যা চুক্তির বাস্তবায়নকারী খাইরুল ইসলামের পুত্র রুহুল আমিন (২২),মৃত আব্দুল কুদ্দুসের পুত্র  নজরুল ইসলাম (২০)।

রোববার ভোররাতে এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দোয়ারাবাজার থানার ২নং নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) রাত ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের নাতনি মোছাঃ আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।  

​অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, দোয়ারাবাজার থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আমির হোসেনের নেতৃত্বে সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) আশরাফ খান ও এএসআই আমির হোসেন সিকদারসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম রবিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।  

​এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে তাঁর জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়াকে লিখে না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কোন্দল তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন।  

​চুক্তিমতো ঘটনার রাতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ ঘরে ঘুমাতে গেলে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টেনে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে সটকে পড়ে।  

​পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে হোসনা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের আয়োজন করেন। কিন্তু নিহতের মুখে রক্ত ও গলায় স্পষ্ট কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।  

​দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুক্তির মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর