ইনডোরে ফুটবল খেলার সময়সূচি নিয়ে বিরোধের জেরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের রিয়াদ মিয়া একটি ইনডোর খেলার মাঠ উদ্বোধন করেন। ওই মাঠে খেলার সময়সূচি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বলের দলের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উজ্জ্বলের দলকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খেলার সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর তারা মাঠে পৌঁছালে ওই সময়ে অন্য একটি দল খেলতে নামে। পরে রিয়াদ মিয়া উজ্জ্বলের দলকে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খেলার বিকল্প সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তারা খেলায় অংশ না নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান।
এ ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় রিয়াদ মিয়ার ভাই মুরাদ মিয়াকে একটি গাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে রিয়াদ মিয়া ও তার সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জ্বলকে মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার পর বানিয়াগাঁও ও পশ্চিম জয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিরপুর বাজারে মুখোমুখি হন। পরে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ। দফায় দফায় সংঘর্ষ পুরো বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে।
এ সময় বাজারের একাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. রুহুল আমিন তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তবে সংঘর্ষে আহতদের সঠিক সংখ্যা এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








