ধানের দাম নেই, চাহিদাও নেই—মধ্যনগরে বিপাকে সহস্র কৃষক
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ AM

ধান গোলায় তুইল্লা ঠেকছি, অহন বেচতাম পারি না, ফালাইতামও পারি না

ধানের দাম নেই, চাহিদাও নেই—মধ্যনগরে বিপাকে সহস্র কৃষক

অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ০৭/০৯/২০২৬ ০৯:০৭:৩৪ AM

ধানের দাম নেই, চাহিদাও নেই—মধ্যনগরে বিপাকে সহস্র কৃষক


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চারাটি ইউনিয়নের সহস্র কৃষক বোরোধান ফলিয়েও এখন বিপাকে পড়েছেন। গোলায় শুকনো ধান পড়ে থাকলেও বাজারে তা বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা। আবার বিক্রি করতে না পারলেও ধান ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ধান নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে কৃষকদের।

বিগত বোরো মৌসুমে অতিভারী বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় পাকা বোরোধানের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর নানা প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ কৃষক সেই ধান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। সংগৃহীত ধানের ভেতরের চালের রং ভালো হলেও অনেক ধানের বাইরের রং কালচে হয়ে গেছে। উঁচু জমির কর্ত্তণকৃত ধানের রং অবশ্য সোনালী।

তবে ধানের মান বা রংয়ের ভিন্নতার কারণে বাজারে চাহিদা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় খোলা বাজারেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা। ফলে ধান ক্রেতার আড়ৎ ও মোকামে ঘুরে ঘুরে বিক্রির চেষ্টা করেও অনেক কৃষক হতাশ হয়ে ফিরছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিমণ ধানের মূল্য ১হাজার৪শত৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও খোলা বাজারে কৃষকদের ধানের দাম বলতে চাইছেন না আড়ৎদার বা খরিদদাররা। কোথাও কোথাও সামান্য পরিমাণ ধান ৭শত থেকে ৮শত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধানের পুটলি নিয়ে গেলেও ক্রেতারা দামই বলছেন না।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, কালো রঙের ধান কোথাও কোথাও ৪শত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ধান হাঁসের খামারিরা কিনছেন বলে জানা গেছে।

বাজারে ধানের এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের হতাশা ফুটে উঠেছে তাঁদের কথাতেও। দিশাহারা কৃষকদের কেউ কেউ বলছেন, ধান গোলায় তুইল্লা ঠেকছি, অহন বেচতাম পারি না, ফালাইতামও পারি না।

মধ্যনগর খাদ্য গোদামের তথ্য অনুযায়ী, এবছর মধ্যনগর, চামরদানী, বংশীকুন্ড(উঃ), বংশীকুন্ডা(দঃ) ও জয়শ্রী—এই ৫টি ইউনিয়ন মিলিয়ে ধান গুদামজাতকরণের জন্য মোট বরাদ্দ রয়েছে ১হাজার ৪শত মেট্রিকটন। কৃষকদের উৎপাদিত ধানের তুলনায় এই বরাদ্দ খুবই কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ অবস্থায় ভাটি অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আগামী বছর বোরোধানের মৌসুমে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উৎপাদিত ধানের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত মূল্য নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিং জোরদার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকেরা।

আজকের সিলেট/ প্রতিনিধি/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর