আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে লেখাপড়া, দক্ষতা অর্জন এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়টি শুক্রবারের অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নূরুল ইসলাম মনি।
কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে যারা পৃষ্ঠপোষকতা বা মদদ দেয়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারাই অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘কিশোরদের অস্ত্র হাতে নয়, বই হাতে দেখতে চাই তারা লেখাপড়া করবে, দক্ষতা অর্জন করবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলবে।’
ঘটনার পরপরই সরকারের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘কোনো ঘটনা ঘটলেই ঢালাওভাবে সরকারের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘অপরাধী যে দলের বা যে পরিচয়েরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলের প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের প্রবণতা রয়েছে।’
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘অতীতে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেছে, তারা নতুন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’
অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ চিহ্নিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
ছায়া সংসদে ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক বিতর্কে সরকারি দল হিসেবে অংশ নেয় সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিরোধী দল হিসেবে বিতর্কে অংশ নেয় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রতিযোগিতা শেষে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী হয়। পরে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









