বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্ত্রীকে ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে স্বামী আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। সিলেটের জাফলং সীমান্ত দিয়ে পাচারের প্রস্তুতির সময় ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামীসহ মানবপাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং বল্লাঘাট এলাকার প্রজাপতি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা থানার আওলাতলী গ্রামের আশিকুর রহমান (২৬), একই থানার নিশ্চাম গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম (২৫), পালগাঁও গ্রামের কাওছার (২৩) এবং গোবদিয়া গ্রামের মো. সাগর মিয়া (২৩)।
পুলিশের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস আগে আশিকুর রহমান বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি স্ত্রীকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করেন। একপর্যায়ে ভারতের পাচারকারীদের কাছে স্ত্রীকে বিক্রি করে দেওয়ার পর তাঁকে ভারতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ভ্রমণের কথা বলে জাফলংয়ে নিয়ে যান।
সেখানে বল্লাঘাট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন আশিকুর। পরে একই হোটেলে তাঁর তিন বন্ধু অবস্থান নেন। পুলিশ জানায়, পাচার নিয়ে স্বামী ও তাঁর বন্ধুদের মধ্যে গোপন কথাবার্তা শুনতে পান ওই তরুণী। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পুলিশকে ফোন করে সাহায্য চান।
খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলে গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং আশিকুর রহমানসহ চারজনকে আটক করে। পরে উদ্ধার হওয়া তরুণী গোয়াইনঘাট থানায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, আটক ব্যক্তিরা আগে থেকেই ভারতে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ভারতের পাচারকারীদের কাছে আশিকুর রহমান নিজের স্ত্রীকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। জাফলং সীমান্ত দিয়ে তাঁকে ভারতে পাচারের আগেই চারজনকে আটক করা হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








