একসময় যে মাঠে তার পায়ের জাদুতে বারবার উচ্ছ্বাসে মেতেছে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা, সেই মনুমেন্টালেই জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ের আবেগে কেঁদে ফেললেন লিওনেল মেসি। দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের এই মুহূর্তে তার কান্না ছুঁয়ে যায় ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের হৃদয়।
রাতে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর শুরু হয় বিদায় আয়োজন। ড্রোন শো ও জনপ্রিয় গায়িকা সোলোদাদ পাস্তোরুত্তির সংগীত পরিবেশনের পর মাইক্রোফোন হাতে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে কথা শুরু করতেই আবেগে থমকে যায় তার কণ্ঠ।
মেসি বলেন, ‘সবার আগে যার কথা মনে পড়ে, তিনি আমার বাবা।’
এরপর নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো লড়াই থামাইনি। আর এখানে না আসাটা আমার জন্য অনেক বড় কষ্টের হবে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আসা সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। বিশ্বাস করুন, আমি সারা জীবন এখানে আসতে চাই।’
কথা বলতে বলতে কিছুক্ষণের জন্য মাথা নিচু করে নিজেকে সামলে নেন মেসি। পরে আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন, ‘আমার আর কিছু করার নেই, শুধু কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া। ২০ বছরেরও বেশি সময় এই জার্সি পরতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত। এমনকি সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতেও।’
বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব নিয়েও কথা বলেন মেসি। তার ভাষায়, ‘ফাইনালে যেভাবে বলা হয়, তেমন কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি। আমরা নিজেদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ধকলের ছিল।’
বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি মেসির বক্তব্যে ফিরে আসতেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। তার কথা থামিয়ে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘চ্যাম্পিয়ন, এগিয়ে চলো’ স্লোগান। এরপর শুরু হয় আর্জেন্টিনার বহুল পরিচিত স্লোগান ‘যে লাফাবে না, সে ইংলিশ।’
সমর্থকদের সঙ্গে সুর মেলান মেসির সতীর্থরাও। তারাও লাফিয়ে ওঠেন, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। আর সেই উল্লাসের মাঝেই মনুমেন্টাল সাক্ষী হয়ে থাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার এক আবেগঘন বিদায় মুহূর্তের।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
ক্রীড়া ডেস্ক 








