মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চরম ভোগান্তি
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ PM

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চরম ভোগান্তি

শেখ ইমন আহমেদ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ০৭/১০/২০২৬ ০৩:৩৫:৫৯ PM

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চরম ভোগান্তি


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে রোগীর স্বজনদের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা চালু হওয়ার পর দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাব্যয় কমার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হওয়ায় অনেক পরিবারকে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৫ জুলাই মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়। ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ হাসপাতালে মোট ২০০টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে ২০০ প্রসূতি এই সেবা পেয়েছেন।

স্থানীয় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির বিষয়। তবে অপারেশনের সময় বিভিন্ন ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে অনেক পরিবারকে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে রোগীর স্বজনদের এত টাকা খরচের কারণ জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল হাসান বলেন, “ওটি চার্জ ২ হাজার টাকা এবং প্রতিদিনের কেবিন ভাড়া ২০০ টাকা। এ ছাড়া কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। তবে সরকারিভাবে কিছু ওষুধপত্রও দেওয়া হয়।”

হাসপাতালের অপর একটি সূত্রের দাবি, অপারেশন ফি, কেবিন ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী মিলিয়ে একটি সিজারিয়ান অপারেশনে রোগীর পরিবারের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সামগ্রীর ওপর নির্ভর করে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি কত এবং কোন কোন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, আর কোনগুলো রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে হবে?

একটি সিজারিয়ান অপারেশনের আগে প্রসূতির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও অপারেশনের প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়। অপারেশনের সময় অ্যানেসথেশিয়া, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, জীবাণুমুক্ত সামগ্রী, শিরায় দেওয়ার তরল, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেলাইয়ের উপকরণসহ বিভিন্ন সামগ্রী লাগে। অপারেশনের পরও প্রসূতির জন্য ব্যথানাশক, প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক, শিরায় তরল, ক্ষত পরিচর্যার সামগ্রীসহ বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এসবের মধ্যে কোনটি হাসপাতাল সরবরাহ করবে এবং কোনটি রোগীর স্বজনকে কিনতে হবে এ বিষয়ে রোগীদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য না থাকায় অপারেশনের সময় চিকিৎসক বা নার্সদের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক ওষুধ ও সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান সেবা চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় প্রসূতিদের কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু অপারেশন ফি, কেবিন ভাড়া এবং বাইরে থেকে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার খরচ মিলিয়ে যদি একটি পরিবারকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি ব্যয় করতে হয়, তাহলে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর এর আর্থিক চাপ কতটা পড়ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে গ্রামের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর অনেকের কাছেই একসঙ্গে কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করা কঠিন। ফলে সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ ধারদেনা করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতাল থেকেই সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিকল্পিত সিজারিয়ানের জন্য নাম নিবন্ধনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অপারেশনের আগে কী কী পরীক্ষা করতে হবে, সরকারি ফি কত, কেবিন ভাড়া কত এবং অপারেশনের পর কতদিন পর্যন্ত ফলোআপ সেবা দেওয়া হবে এসব তথ্য রোগীদের সহজে জানানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিটিজেন চার্টারে সিজারিয়ান সেবার এসব তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে একজন দরিদ্র প্রসূতির পরিবারকে যেন অপারেশন থিয়েটারের দরজায় গিয়ে জানতে না হয় কোন ওষুধ হাসপাতাল দেবে, আর কোনটি বাইরে থেকে কিনতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্যই হলো সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল হাসান বলেন, “আমরা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টা করি কীভাবে সেবাটা এনশিউর করা যায়।”

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর